ব্যারাকপুর SDO অফিসে SIR ফর্ম জমা দিতে গিয়ে নাকাল বিজেপি বিধায়ক

ব্যারাকপুর: মঙ্গলবার ব্যারাকপুর এসডিও অফিসে চাঞ্চল্যকর ঘটনা (Barrackpore)। SIR সংক্রান্ত ফর্ম জমা দিতে গিয়ে হেনস্থা হতে হল বিজেপি বিধায়ককে। বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিংয়ের পুত্র পবন সিং এবং ব্যারাকপুর ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
barrackpore-sdo-office-form-7-controversy

ব্যারাকপুর: মঙ্গলবার ব্যারাকপুর এসডিও অফিসে চাঞ্চল্যকর ঘটনা (Barrackpore)। SIR সংক্রান্ত ফর্ম জমা দিতে গিয়ে হেনস্থা হতে হল বিজেপি বিধায়ককে। বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিংয়ের পুত্র পবন সিং এবং ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তাপস ঘোষ একসঙ্গে উপস্থিত হয়ে ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য ফর্ম ৭ জমা দিতে যান। অভিযোগ, সেই সময় প্রশাসনের এক ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের বদলে একাধিক অজুহাত দেখিয়ে ফর্ম গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করেন, যা ঘিরে চরম রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।

বিজেপির অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে ভুয়ো ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী ফর্ম ৭ জমা দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু এসডিও অফিসে পৌঁছনোর পর সংশ্লিষ্ট আধিকারিক বলেন, তাঁর “এই ফর্ম নেওয়ার ক্ষমতা নেই”, “উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে হবে” এবং “একসঙ্গে এত ফর্ম নেওয়ার একটা সীমা আছে”। এই বক্তব্যেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপি বিধায়ক।

   

পথ কুকুরের কামড়ে মৃত্যু হলে দায়ী কে? রাজ্য-ফিডারদের দিতে হবে জরিমানা, সুপ্রিম কোর্ট

বিধায়ক পবন সিং দাবি করেন, নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে ফর্ম গ্রহণ করা প্রশাসনের সাংবিধানিক দায়িত্ব। তাঁর অভিযোগ, “কোনও আইনেই ফর্ম ৭ জমার সংখ্যায় সীমা নির্ধারিত নেই। অথচ ইচ্ছাকৃতভাবে প্রক্রিয়া আটকে দিয়ে ভুয়ো ভোটারদের রক্ষা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।” একই সুরে তাপস ঘোষ বলেন, এই আচরণ প্রমাণ করে প্রশাসনের একাংশ শাসকদলের রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যস্ত।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট বারবার “উপরের নির্দেশ”-এর কথা বললেও নির্বাচন কমিশনের কোনও লিখিত নির্দেশ দেখাতে পারেননি। বিজেপির দাবি, “উপরের কর্তৃপক্ষ” বলতে এখানে নির্বাচন কমিশন নয়, রাজ্যের শাসকদলের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে বোঝানো হচ্ছে।

এই মন্তব্য ঘিরেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে জানানো হয়, ফর্ম গ্রহণের ক্ষেত্রে কিছু প্রক্রিয়াগত নিয়ম রয়েছে এবং সেই নিয়ম মেনেই কাজ করা হচ্ছে। তবে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের তরফে কোনও লিখিত বা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে রাজ্যে আগামী দিনে সংঘাত আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে ভুয়ো ভোটার ইস্যু দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধীদের প্রধান অভিযোগের জায়গা। বিজেপির তরফে বারবার দাবি করা হয়েছে, এই ভুয়ো ভোটারদের উপর ভর করেই শাসকদল নির্বাচনে সুবিধা পায়।

এই ঘটনার পর বিজেপি নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁরা আইনি পথেই লড়াই চালাবেন এবং প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হবেন। তাঁদের বক্তব্য, “জনগণের টাকায় বেতন পাওয়া আধিকারিকরা কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করতে পারেন না। সংবিধানই তাঁদের একমাত্র নির্দেশিকা।”

অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এখনও পর্যন্ত এই নির্দিষ্ট ঘটনায় কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে দলের অন্দরমহলে আলোচনা, ভোটার তালিকা ইস্যুতে বিরোধীরা অকারণ উত্তেজনা তৈরি করছে। সব মিলিয়ে, ব্যারাকপুর এসডিও অফিসের এই ঘটনা রাজ্যের প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google