রাষ্ট্রায়ত্ত অধ্যায়ে ইতি: ৪,৩০০ কোটিতে বিক্রি পাকিস্তানের জাতীয় এয়ারলাইন্স

দীর্ঘদিনের লোকসান ও আর্থিক সঙ্কট থেকে মুক্তি পেতে পাকিস্তান সরকার অবশেষে তাদের জাতীয় বিমান সংস্থা পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স (PIA) বেসরকারিকরণ সম্পন্ন করল। মঙ্গলবার ইসলামাবাদে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us
PIA Privatization News

দীর্ঘদিনের লোকসান ও আর্থিক সঙ্কট থেকে মুক্তি পেতে পাকিস্তান সরকার অবশেষে তাদের জাতীয় বিমান সংস্থা পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স (PIA) বেসরকারিকরণ সম্পন্ন করল। মঙ্গলবার ইসলামাবাদে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রায় ৪,৩০০ কোটি টাকায় (১৩৫ বিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি) PIA বিক্রি হয়।

এই সিদ্ধান্তকে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার সংস্কারে পাকিস্তান সরকারের অন্যতম বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বছরের পর বছর আর্থিক ক্ষতি, ব্যর্থ পুনরুজ্জীবন পরিকল্পনা এবং বিপুল দেনার বোঝা টানতে না পেরে সরকার অবশেষে PIA থেকে সরে আসার পথ বেছে নিল।

   

দরপত্র জমা

ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বেসরকারিকরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তিনটি প্রাক্-যোগ্যতা অর্জনকারী সংস্থা—লাকি সিমেন্ট, বেসরকারি বিমান সংস্থা এয়ারব্লু এবং বিনিয়োগ সংস্থা আরিফ হাবিব গ্রুপ। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে স্বচ্ছ বাক্সে সিল করা দরপত্র জমা দেন তাঁরা।

প্রথম ধাপে দরপত্র খোলার পর দেখা যায়, আরিফ হাবিব গ্রুপ সর্বোচ্চ ১১৫ বিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি দর দেয়। লাকি সিমেন্টের প্রস্তাব ছিল ১০৫.৫ বিলিয়ন রুপি এবং এয়ারব্লু মাত্র ২৬.৫ বিলিয়ন রুপি দর দেয়। পরে সরকার নির্ধারিত ১০০ বিলিয়ন রুপির রেফারেন্স মূল্যের ভিত্তিতে আরিফ হাবিব ও লাকি সিমেন্টকে উন্মুক্ত নিলামে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

চূড়ান্ত পর্যায়ে দর হাঁকানোর লড়াইয়ে আরিফ হাবিব গ্রুপ ১৩৫ বিলিয়ন রুপির প্রস্তাব দেয়। সেই প্রস্তাব আর না বাড়িয়ে নিলাম থেকে সরে দাঁড়ায় লাকি সিমেন্ট। এর ফলেই বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয় আরিফ হাবিব গ্রুপকে।

পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার এই বেসরকারিকরণকে “ঐতিহাসিক মাইলফলক” বলে উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, এটি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার সংস্কার এবং PIA-র হারানো গৌরব ফেরানোর ভাবনার প্রতিফলন।

চুক্তির শর্ত ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

চুক্তি অনুযায়ী, সরকার প্রথম ধাপে PIA-র ৭৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করেছে। সফল দরদাতা আগামী ৯০ দিনের মধ্যে বাকি ২৫ শতাংশ শেয়ার কেনার সুযোগ পাবে। প্রাথমিক বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থের ৯২.৫ শতাংশ সরাসরি বিমান সংস্থার পুনর্গঠন ও বিনিয়োগে ব্যবহার করা হবে। বাকি ৭.৫ শতাংশ যাবে সরকারের কোষাগারে।

এর পাশাপাশি, আগামী পাঁচ বছরে অতিরিক্ত ৮০ বিলিয়ন রুপি বিনিয়োগ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে নতুন মালিকের। এই অর্থ বিমান বহর আধুনিকীকরণ, পরিষেবা উন্নয়ন এবং অপারেশনাল দক্ষতা বাড়াতে খরচ করা হবে।

বিপুল দেনার দায়

উল্লেখযোগ্যভাবে, বিক্রির আগে সরকার PIA-র বিপুল দেনার দায় নিজেদের কাঁধে নেয়। গত বছর এই দেনার পরিমাণ ছিল প্রায় ৬৫৪ বিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি। এই সিদ্ধান্তই বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়াতে বড় ভূমিকা নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

একসময় বিশ্বের অন্যতম সেরা বিমান সংস্থার তালিকায় থাকা PIA বছরের পর বছর দুর্নীতি, দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও পরিষেবার মান পড়ে যাওয়ায় কার্যত ধ্বংসের মুখে পড়েছিল। সেই দীর্ঘ পতনের পরিণতিই শেষ পর্যন্ত এই বেসরকারিকরণ—যা পাকিস্তানের কর্পোরেট ও অর্থনৈতিক ইতিহাসে একটি বড় অধ্যায় হয়ে রইল।

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।

Follow on Google