কলকাতা: দলের মধ্যে ক্ষোভ বিক্ষোভ অব্যাহত। (Ajmal Siddiqui)এই আবহেই চাঞ্চল্য ছড়াল তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সংখ্যালঘু সেলের সম্পাদক আজমল সিদ্দিকীর পদত্যাগকে ঘিরে। শনিবার, ৬ জুন তিনি দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে জানান। তাঁর এই পদত্যাগের পর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং সংগঠনের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর করা মন্তব্য ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
#WATCH | Kolkata, West Bengal: TMC State Minority Cell Secretary Ajmal Siddiqui resigns from his post. pic.twitter.com/70o9Bw7hVM
— ANI (@ANI) June 6, 2026
এক সাক্ষাৎকারে আজমল সিদ্দিকী দাবি করেন যে, দলের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী মনে করেন। তাঁর অভিযোগ, দলের ভেতরে এমন এক পরিবেশ তৈরি হয়েছে যেখানে অভ্যন্তরীণ চাপ ক্রমশ বেড়েছে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সাধারণ নেতাকর্মীদের মতামত গুরুত্ব পাচ্ছে না। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, দলের মধ্যে কিছু বিষয় তাঁর কাছে অসহনীয় হয়ে উঠেছিল, যার ফলেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আরও দেখুনঃ “পাইথনে তৈরি, তিন লাইন কোডে হ্যাক!” ইভিএম নয় ব্যালটে ফিরতে দাবি ককরোচ জনতা পার্টির
আজমল সিদ্দিকী আরও বলেন, সম্প্রতি তিনি হজ যাত্রা থেকে ফিরে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন। তাঁর দাবি, দল সম্পর্কে মানুষের মধ্যে যে ধারণা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তাঁর মতে, বিভিন্ন বিতর্ক ও কেলেঙ্কারির অভিযোগে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি ধারণা তৈরি হয়েছে। তবে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে সামনে আসেনি।
পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করার যে লক্ষ্য নিয়ে তিনি রাজনীতিতে এসেছিলেন, সেই লক্ষ্য পূরণ করা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছিল। তাঁর মতে, রাজনৈতিক সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানুষের কল্যাণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি সেই সুযোগ পাচ্ছিলেন না বলেই মনে করেছেন।
তবে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা শুরু হলেও আজমল সিদ্দিকী স্পষ্ট করেছেন যে, এই মুহূর্তে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তিনি নেননি। বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, আপাতত কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার কথা তাঁর ভাবনায় নেই। বরং তিনি পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন, নতুন শিল্প স্থাপন এবং বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের বিষয়টিকেই অগ্রাধিকার দিতে চান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলের সংখ্যালঘু সেলের শীর্ষ পদাধিকারীর পদত্যাগ নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এর ফলে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতিতেও কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও আগামী দিনে আজমল সিদ্দিকী সক্রিয় রাজনীতিতে কী ভূমিকা নেবেন বা কোনো নতুন রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।




















