নয়াদিল্লি: ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নিয়ে বিতর্ক যেন কিছুতেই থামছে না। (EVM Hacking)সম্প্রতি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র এক নেতা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেছেন, ভারতের ইভিএমগুলো পাইথন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজে তৈরি এবং মাত্র তিন লাইনের কোড লিখে সেগুলো সহজেই হ্যাক করা সম্ভব। তিনি নির্বাচনে ‘ভায়োলেট পেপার’ অর্থাৎ কাগজের ব্যালটে ফিরে যাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তাঁর এই বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং ইভিএম বিরোধীদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।কিন্তু প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং প্রযুক্তিগতভাবে অসম্ভব। ভারতের ইভিএম মেশিনগুলো কোনো হাই-লেভেল ল্যাঙ্গুয়েজ যেমন পাইথনে চলে না। এগুলো চলে বেসিক মাইক্রোকন্ট্রোলারের উপর, যেখানে ফার্মওয়্যার লেখা হয় সি (C) এবং অ্যাসেম্বলি ল্যাঙ্গুয়েজে।
আরও দেখুনঃ মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের নয়া সভাপতি হুমায়ুন কবীর, কী বললেন প্রাক্তন সভাপতি?
এই ফার্মওয়্যার ওয়ান টাইম প্রোগ্রামেবল (OTP) চিপে বার্ন করা থাকে। একবার বার্ন হয়ে গেলে চিপ আর পরিবর্তন করা যায় না। মেশিনগুলো সম্পূর্ণ স্ট্যান্ডঅ্যালোন অর্থাৎ ইন্টারনেট বা কোনো নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত নয়।একজন সিনিয়র প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ড. অমিতাভ সেনগুপ্ত বলেন, “পাইথন একটি অ্যাপ্লিকেশন লেভেলের ল্যাঙ্গুয়েজ। ইভিএমের মতো এমবেডেড সিস্টেমে এর ব্যবহার অর্থহীন।
যাঁরা এমন দাবি করছেন, তাঁরা হয় প্রযুক্তি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ, নয়তো ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন।” নির্বাচন কমিশন বারবার জানিয়েছে যে, প্রতিটি ইভিএম মেশিনের সোর্স কোড বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সামনে পরীক্ষা করানো হয়। নির্বাচনের আগে মেশিন র্যান্ডমাইজ করে বরাদ্দ করা হয়। সঙ্গে থাকে ভিভিপিএটি (VVPAT), যার মাধ্যমে ভোটার নিজের ভোট কাগজে যাচাই করতে পারেন।
গত কয়েকটি নির্বাচনে বেশ কয়েকবার VVPAT অডিট হয়েছে এবং বড় কোনো অসঙ্গতি পাওয়া যায়নি।তবু ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র নেতা তাঁর দাবিতে অনড়। তিনি বলছেন, শুধুমাত্র কাগজের ব্যালটেই নির্বাচন স্বচ্ছ হতে পারে। তাঁর সমর্থকরা সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বক্তব্য শেয়ার করে বলছেন, “ইভিএমে কারচুপি হয়েছে, তাই আমরা ভোট হারছি।”




















