যোগীরাজ্যে ফের ধ্বংসাভিযান! সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা মসজিদ মুস্তফা কাদরিতে বুলডোজার

সাম্ভাল: উত্তরপ্রদেশের সাম্ভাল জেলার কাসেরভা গ্রামে ছড়াল উত্তেজনা। (Mustafa Qadri)প্রশাসন মসজিদ মুস্তফা কাদরি নামে একটি ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙার কাজ শুরু করেছে। অভিযোগ উঠেছে, এই মসজিদটি…

mustafa-qadri-mosque-demolition-sambhal-government-land-encroachment-up-bulldozer-action

সাম্ভাল: উত্তরপ্রদেশের সাম্ভাল জেলার কাসেরভা গ্রামে ছড়াল উত্তেজনা। (Mustafa Qadri)প্রশাসন মসজিদ মুস্তফা কাদরি নামে একটি ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙার কাজ শুরু করেছে। অভিযোগ উঠেছে, এই মসজিদটি সরকারি জমির উপর অবৈধভাবে নির্মিত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তহসিলদার আদালতের উচ্ছেদ আদেশ মেনে এবং সরকারি জমি থেকে অবৈধ দখলমুক্ত করার অভিযানের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

   

শনিবার সকাল থেকে ভারী পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করে ধ্বংসাভিযান শুরু হয়। বুলডোজার নিয়ে প্রশাসনের টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছালে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। অনেকে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানান। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাপক সতর্কতা অবলম্বন করে। এখনও পর্যন্ত মসজিদের কিছু অংশ ভাঙা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

আরও দেখুনঃ খারিজি মাদ্রাসা নিয়ে কড়া রাজ্য সরকার! জেলা প্রশাসনের কাছে তলব রিপোর্ট

প্রশাসনের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলা অভিযানের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তহসিলদার আদালত আগেই উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সরকারি জমিতে অবৈধ নির্মাণ সরিয়ে ফেলার অভিযানে সাম্ভাল জেলায় এর আগেও বেশ কয়েকটি স্থাপনা ভাঙা হয়েছে।

তবে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন এই অভিযানকে ‘একতরফা’ ও ‘অন্যায়’ বলে উল্লেখ করেছেন। মসজিদ কমিটির এক সদস্য বলেন, “এই মসজিদটি বহু বছর ধরে এখানে রয়েছে। এলাকার মানুষ নামাজ পড়েন। হঠাৎ করে ভাঙার সিদ্ধান্ত কোনো যুক্তিতে নেওয়া হল? আমরা আদালতে যাব।” ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সাম্ভাল জেলায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও এসএসপি পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শান্তি বজায় রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের উস্কানিমূলক কাজ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এই ধরনের অভিযান উত্তরপ্রদেশে নতুন নয়।

গত কয়েক বছরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সরকারি জমি থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদের অভিযান চলছে। প্রশাসনের দাবি, এতে সরকারি সম্পত্তি রক্ষা হচ্ছে এবং উন্নয়নমূলক কাজের পথ প্রশস্ত হচ্ছে। কিন্তু বিরোধীরা বলছেন, এই অভিযানগুলো অনেক সময় ধর্মীয় স্থাপনাকে টার্গেট করে করা হয়, যা সম্প্রদায়গত সম্প্রীতিতে আঘাত করে।