ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও গিগ ইকোনমির যুগে ডেলিভারি পার্টনারদের আয় নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। তবে সম্প্রতি Zomato-র সিইও দীপিন্দর গোয়াল যে তথ্য প্রকাশ করেছেন, তা নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। ২০২৫ সালে Zomato-র ডেলিভারি পার্টনাররা গড়ে প্রতি ঘণ্টায় ১০২ টাকা আয় করেছেন—এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই চমক লেগেছে বহু মানুষের মধ্যে। বিশেষ করে যাঁরা মনে করেন ডেলিভারি কর্মীদের আয় অত্যন্ত কম, তাঁদের কাছে এই পরিসংখ্যান কিছুটা হলেও চোখ খুলে দেওয়ার মতো।
Zomato কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই হিসাব কোম্পানির নিজস্ব ডেটার ভিত্তিতে তৈরি এবং এতে টিপস ধরা হয়নি। অর্থাৎ গ্রাহকদের দেওয়া অতিরিক্ত টিপ বাদ দিয়েই ঘণ্টাপিছু গড় আয় ১০২ টাকা। তুলনামূলকভাবে ২০২৪ সালে এই অঙ্ক ছিল ঘণ্টায় ৯২ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ১০.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে ডেলিভারি পার্টনারদের গড় আয়, যা গিগ ইকোনমির নিরিখে উল্লেখযোগ্য বলেই মনে করছেন অনেকে।
এই অঙ্ককে মাসিক আয়ে রূপান্তর করলে ছবিটা আরও স্পষ্ট হয়। যদি কোনও ডেলিভারি পার্টনার দিনে গড়ে ১০ ঘণ্টা কাজ করেন এবং মাসে ২৬ দিন সক্রিয় থাকেন, তাহলে মোট আয় দাঁড়ায় প্রায় ২৬,৫০০ টাকা। কাগজে-কলমে এই অঙ্ক অনেকের কাছেই যথেষ্ট আকর্ষণীয়। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই মন্তব্য করেছেন, এই আয় বহু এন্ট্রি-লেভেল চাকরির সমতুল্য, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে আইটি বা বেসরকারি সেক্টরের শুরুর বেতনের কাছাকাছিও।
তবে এই পরিসংখ্যানের অন্য দিকও আছে, যা ডেলিভারি পার্টনাররাই সামনে আনছেন। তাঁদের বক্তব্য, এই আয় ‘গ্রস’ বা মোট হিসাব। বাস্তবে হাতে যে টাকা থাকে, তা অনেক কম। কারণ জ্বালানি খরচ, বাইক বা স্কুটির রক্ষণাবেক্ষণ, মোবাইল ডেটা, ইন্স্যুরেন্স-সহ নানা বিষয় মাথায় রাখতে হয়।




















