
মস্কো: বিশ্ব রাজনীতির পালাবদল ও জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল ভিয়েতনাম। (nuclear power plant)রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে নতুন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করল দেশটি। গত ২৩ মার্চ, ২০২৬ মস্কোতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিহুস্টিন এবং ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী ফাম মিন চিন।
এই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম। চুক্তি অনুযায়ী, ভিয়েতনামের নিন থুয়ান প্রদেশে ‘নিন থুয়ান-১’ নামে একটি আধুনিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এতে থাকবে রাশিয়ার অত্যাধুনিক প্রযুক্তির দুটি VVER-1200 রিঅ্যাক্টর, যেগুলির সম্মিলিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা হবে প্রায় ২,৪০০ মেগাওয়াট।
আরও দেখুনঃ এক লাফে দেশে কতটা বাড়ল সোনা-রুপোর দাম ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্পটি ভিয়েতনামের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ। গত কয়েক বছরে দেশটির শিল্প ও অর্থনৈতিক উন্নতির ফলে বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে ভিয়েতনামকে আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের ওপর অনেকটাই নির্ভর করতে হচ্ছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির কারণে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিকল্প শক্তির উৎস খোঁজা জরুরি হয়ে পড়ে।
এই পরিস্থিতিতেই পারমাণবিক শক্তির দিকে ঝুঁকেছে ভিয়েতনাম। যদিও এই পরিকল্পনা নতুন নয়। ২০০৯ সালেই প্রথমবার এই প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে ২০১১ সালের ফুকুশিমা পারমাণবিক বিপর্যয়ের পর বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক শক্তি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। তার পাশাপাশি আর্থিক সমস্যার কারণেও ২০১৬ সালে এই প্রকল্প স্থগিত করে দেয় ভিয়েতনাম সরকার।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালে নতুন করে পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরুজ্জীবিত করার সিদ্ধান্ত নেয় হ্যানয়। দীর্ঘ আলোচনা ও পরিকল্পনার পর অবশেষে রাশিয়ার সঙ্গে এই চুক্তি চূড়ান্ত করা হলো। এই চুক্তি শুধু জ্বালানি ক্ষেত্রেই নয়, কূটনৈতিক সম্পর্কের দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
প্রকল্পটির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০৩০ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা। এই সময়সীমার মধ্যে নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রোসাটমের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট এবং পরিবেশবান্ধব শক্তির চাহিদা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে পারমাণবিক শক্তি আবারও গুরুত্ব পাচ্ছে। কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে অনেক দেশই এখন এই শক্তির দিকে ঝুঁকছে। ভিয়েতনামের এই পদক্ষেপ সেই বৈশ্বিক প্রবণতারই অংশ।

