
তেহরান: ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুর ওপর মার্কিন আক্রমণ অব্যাহত। (USS Abraham Lincoln)এই আবহেই ইউএস নেভির বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন (সিভিএন-৭২) থেকে যুদ্ধবিমানগুলো একের পর এক উড়ে যাচ্ছে। এমনটাই চোখে পড়ল বিশ্ববাসীর। ‘অপারেশন ইপিক ফিউরি’-এর অংশ হিসেবে মার্কিন বাহিনী ইরানে সামরিক ঘাঁটি ও লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল আঘাত হানছে। এই অভিযান পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
সান দিয়েগো থেকে নভেম্বরে যাত্রা শুরু করে জানুয়ারিতে পশ্চিম এশিয়ায় পুনর্মোতায়েন করা হয়েছে এই নিমিৎজ-শ্রেণির বিমানবাহী রণতরীটি। বর্তমানে এটি আরব সাগর বা আশেপাশের জলসীমায় অবস্থান করে অপারেশন ইপিক ফিউরির মূল শক্তি হয়ে উঠেছে। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ফ্লাইট ডেক থেকে এফ/এ-১৮ সুপার হর্নেট, ইএ-১৮জি গ্রাউলারসহ বিভিন্ন যুদ্ধবিমান উড়ে যাচ্ছে।
আরও দেখুনঃ বুধে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের ডাক কমিশনের
নাবিকরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে বিমানগুলোকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রাখছেন। কিছু বোমার গায়ে নাবিকদের নাম ও বার্তা লেখা হয়েছে যা ঐতিহ্যবাহী একটি প্রথা।অপারেশন ইপিক ফিউরির লক্ষ্য ইরানের সামরিক সক্ষমতা, বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও সম্ভাব্য পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে দুর্বল করা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে এই অভিযান শুরু হয়েছে বলে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, আক্রমণগুলো ‘সার্জিক্যাল’ ও ‘ওভারওয়েলমিং’ অর্থাৎ নির্ভুল ও শক্তিশালী।
ইরানের প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর এসেছে, যাতে কয়েকজন মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছে বলে জানা গেছে।ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনকে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে আক্রমণ করেছে এবং এটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। কিন্তু মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
CENTCOM-এর পোস্টে স্পষ্ট বলা হয়েছে, “ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ অপারেশন ইপিক ফিউরি চালিয়ে যাচ্ছে এবং সমুদ্র থেকে শক্তি প্রক্ষেপণ করছে।” তারা ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে প্রমাণ করেছে যে, রণতরীটি পুরোপুরি সক্রিয় এবং বিমান চলাচল অব্যাহত রয়েছে।এই অভিযানের পটভূমিতে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা।
আলোচনা চলাকালীনই মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। ইরানের তরফে প্রত্যাঘাত এসেছে, কিন্তু মার্কিন বাহিনী বলছে, তারা শুধুমাত্র সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করছে। তবে যুদ্ধের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে তেলের সরবরাহ, স্ট্রেইট অব হরমুজের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বড় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল এই সংঘাতের দ্রুত অবসান চাইছে।

