আমেরিকা-ইরান শান্তি চুক্তি সাক্ষর! যুদ্ধ থামলেও অধরা ট্রাম্পের লক্ষ্য

প্যারিস: ফ্রান্সে আয়োজিত জি-৭ (G7) শীর্ষ সম্মেলনের মাঝেই ইরানের সঙ্গে একটি ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকে (MoU) সই করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চুক্তির ঠিক আগে…

Donald Trump signs 14-point MoU with Iran

প্যারিস: ফ্রান্সে আয়োজিত জি-৭ (G7) শীর্ষ সম্মেলনের মাঝেই ইরানের সঙ্গে একটি ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকে (MoU) সই করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চুক্তির ঠিক আগে এক সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছিলেন, এই আলোচনা ব্যর্থ হলে আমেরিকা ফের বোমাবর্ষণ শুরু করবে। তবে দুই তরফেই চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ায়, এবার আগামী ৬০ দিন ধরে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং ইউরেনিয়াম মজুতের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চালাবে দুই দেশ।

কী ছিল ট্রাম্পের প্রাথমিক লক্ষ্য?

যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্পের যে আগ্রাসী মেজাজ ছিল, স্বাক্ষরিত এই ১৪ দফার চুক্তিতে তা অনেকটাই শান্ত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যুদ্ধের আগে ও পরে ট্রাম্প একাধিকবার জানিয়েছিলেন, তাঁর মূল লক্ষ্য হল ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো, পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি শেষ করা এবং তাদের সামরিক বাহিনীকে ধ্বংস করা। তিন মাসের এই যুদ্ধে ইরানের সামরিক পরিকাঠামো হয়তো অনেকটাই ধ্বংস হয়েছে, কিন্তু মার্কিন-ইজরায়েল যুদ্ধের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে যে প্রবল জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, তার জেরেই আমেরিকার বাকি লক্ষ্যগুলো ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে গেছে বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের।

   

কোথায় পিছিয়ে পড়ল আমেরিকা?

যে প্রেসিডেন্ট একসময় ইরানের পরবর্তী সুপ্রিম লিডার কে হবেন এবং হরমুজ প্রণালীর (Strait of Hormuz) টোল থেকে শুরু করে তেলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে চেয়েছিলেন, এই চুক্তিতে সেই বিষয়গুলো কার্যত এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

শাসনব্যবস্থা অপরিবর্তিত: চুক্তিতে নির্বাচন বা ইসলামিক শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের কোনও উল্লেখ নেই। ফলে ১৯৭৯ সাল থেকে চলে আসা বর্তমান সরকারই তেহরানে বহাল থাকছে।

চুক্তিতে বলা হয়েছে, ইরানকে সামুদ্রিক চলাচল যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে। তবে শর্ত হল, প্রথম ৬০ দিন ইরান বিনা বাধায় হরমুজ প্রণালী খোলা রাখবে। কিন্তু এরপর তারা সেখানে সামুদ্রিক চলাচলের ওপর টোল বসাতেই পারে, যার মাধ্যমে যুদ্ধের বিপুল ক্ষতিপূরণ তুলে নেওয়ার একটা বড় সুযোগ পাবে তেহরান। এশিয়ার দেশগুলোর জন্য এই পথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিপুল আর্থিক লাভের মুখে ইরান!

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এই চুক্তির ফলে ইরান অর্থনৈতিকভাবে চরম লাভবান হতে চলেছে। আমেরিকা তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পাশাপাশি আটকে থাকা বিপুল সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। এখানেই শেষ নয়, ইরান পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল তহবিলের কথাও নথিতে উল্লেখ রয়েছে, যা ট্রাম্প আগে অস্বীকার করেছিলেন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স অবশ্য দাবি করেছেন যে, এই অর্থ আমেরিকা দেবে না, তা আসবে উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে। তবে অর্থের উৎস যাই হোক না কেন, এই চুক্তির হাত ধরে তেহরানের কোষাগারে যে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ঢুকতে চলেছে, তা একপ্রকার নিশ্চিত।