যুদ্ধের খরচে নাকাল দেশবাসী! ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রাস্তায় মার্কিনরা

ওয়াশিংটন: শনিবার আমেরিকার ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব দিন। (Protests Against Trump)দেশের প্রতিটি কোণায়, ছোট-বড় শহর থেকে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। সংগঠকদের দাবি, সব ৫০টি অঙ্গরাজ্যে ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
us-protests-against-trump-war-spending-millions-rally-usa

ওয়াশিংটন: শনিবার আমেরিকার ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব দিন। (Protests Against Trump)দেশের প্রতিটি কোণায়, ছোট-বড় শহর থেকে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। সংগঠকদের দাবি, সব ৫০টি অঙ্গরাজ্যে তিন হাজারেরও বেশি স্থানে একযোগে প্রতিবাদ হয়েছে এবং মোট অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৯০ লক্ষ। এটি সম্ভবত আমেরিকার ইতিহাসে একদিনে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রতিবাদের একটি। মানুষের গলায় একটাই স্লোগান “নো টু মনার্কি, নো টু এক্সট্রিমিজম, নো টু ওয়ার্স, আওয়ার ফোর্সেস আর নট ফর সেল।”

অর্থাৎ, “রাজতন্ত্র নয়, চরমপন্থা নয়, যুদ্ধ নয়, আমাদের সেনাবাহিনী বিক্রির জন্য নয়।”‘নো কিংস’ আন্দোলনের এটি তৃতীয় বড় ধাপ। গত বছর জুনে প্রথমবার যখন ট্রাম্পের জন্মদিন উপলক্ষে এই প্রতিবাদ শুরু হয়, তখন প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। অক্টোবরে দ্বিতীয় দফায় সেই সংখ্যা বেড়ে হয় সাত লাখেরও বেশি। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন। ইরানের সঙ্গে চলতে থাকা, যুদ্ধের খরচ, অভিবাসন নীতির কঠোরতা এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এককেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা এসব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ফেটে পড়েছে।

   

আরও দেখুনঃ এপ্রিলে ধামাকা লঞ্চ, রিয়েলমি ১৬ থেকে নর্ড ৬ নজরে

অনেকে বলছেন, “আমেরিকায় রাজা নেই, কেউ রাজা হতে পারবে না।”নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ার থেকে শুরু করে ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিটল হিল, শিকাগোর ডাউনটাউন, বোস্টন কমন, লস অ্যাঞ্জেলেস, সান ফ্রান্সিসকো সব বড় শহরেই জনসমুদ্র। বোস্টনে একাই এক লাখেরও বেশি মানুষ জড়ো হয়েছেন বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। মিনেসোটায় একটি বড় সমাবেশে বিখ্যাত সংগীতশিল্পী ব্রুস স্প্রিংস্টিনের মতো তারকারা উপস্থিত ছিলেন।

ছোট শহরগুলোতেও প্ল্যাকার্ড হাতে মানুষ নেমেছেন। একজন প্রতিবাদকারী বলেন, “আমরা আর চুপ করে থাকতে পারছি না। আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ যুদ্ধের আগুনে পুড়িয়ে দিতে দেব না।”প্রতিবাদকারীরা মূলত তিনটি বিষয়ে সোচ্চার। প্রথমত, ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতি। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে আমেরিকান সেনা সদস্যরা আহত হয়েছেন, জ্বালানির দাম বেড়েছে, জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে।

দ্বিতীয়ত, অভিবাসন নীতির কঠোর প্রয়োগ। অনেক পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তৃতীয়ত, প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ‘একনায়কতান্ত্রিক’ মনোভাব। প্রতিবাদকারীরা বলছেন, “ট্রাম্প যেন নিজেকে রাজা ভাবছেন। কংগ্রেস, আদালত কাউকেই মানছেন না।” আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই আন্দোলন কোনো একক দলের নয়। ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি কিছু রিপাবলিকানও সমর্থন জানিয়েছেন। অনেক স্থানীয় নেতা, শিক্ষক, শ্রমিক, ছাত্র সবাই এক হয়েছেন। প্রতিবাদ শান্তিপূর্ণ ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে, তবে কোথাও কোথাও ছোটখাটো অসুবিধা হয়েছে।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.