ওয়াশিংটন: পশ্চিম এশিয়ার রণাঙ্গনে ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার তুরুপের তাস এখন কোনও অত্যাধুনিক বেসরকারি সংস্থার তৈরি অস্ত্র নয়! সিলিকন ভ্যালির তাবড় স্টার্টআপ সংস্থাগুলিকে পিছনে ফেলে, এই যুদ্ধে আমেরিকার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে খোদ মার্কিন সেনার তৈরি এক সস্তার ঘাতক ড্রোন। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ইরানের নিজস্ব ড্রোন প্রযুক্তিকে ‘রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং’ করেই এই নয়া ড্রোনটি তৈরি করেছে আমেরিকা।
কী এই ‘লুকাস’ ড্রোন?
‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই বিশেষ ড্রোনটির নাম এফএলএম ১৩৬ (FLM 136) বা ‘লুকাস’ (Lucas)। সঙ্ঘাতের একেবারে শুরুর দিক থেকেই ইরানের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে নিখুঁতভাবে হামলা চালাতে এই ড্রোনটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে মার্কিন সেনা। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের ড্রোন প্রযুক্তি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে তারই একটি সহজ ও মার্কিন অভিযানের উপযোগী সংস্করণ তৈরি করেছেন পেন্টাগনের ইঞ্জিনিয়াররা। ভরসাযোগ্যতা ও বহুল ব্যবহারের কারণে ইতিমধ্যেই একে ড্রোনের দুনিয়ায় ‘টয়োটা করোলা’ (Toyota Corolla) বলে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে।
সস্তার ঘাতক অস্ত্র US Lucas drone Iran war
‘লুকাস’ ড্রোনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল এর অভাবনীয় কম খরচ। প্রতিটি ইউনিটের দাম মাত্র ১০ হাজার থেকে ৫৫ হাজার মার্কিন ডলারের মধ্যে, যা ইরানের বিখ্যাত ‘শাহেদ’ ড্রোনের দামের প্রায় সমতুল্য। প্রথাগত অত্যাধুনিক মার্কিন যুদ্ধাস্ত্রের তুলনায় এর উৎপাদন খরচ এতটাই কম যে, এটি আমেরিকার জন্য অত্যন্ত লাভজনক হয়ে উঠেছে।
ক্ষমতা ও দুর্বলতা
রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ঘাতক লুকাস ড্রোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে টানা ৬ ঘণ্টা উড়তে পারে এবং ৫০০ মাইলেরও বেশি দূরত্ব অতিক্রম করে লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম। এর ফলে অনেক কম খরচে দীর্ঘ পাল্লার হামলা চালানোর দারুণ সুবিধা পেয়েছে আমেরিকা। তবে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, জিপিএস জ্যামিং বা অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই ড্রোন হয়তো কিছুটা প্রতিকূলতার মুখে পড়তে পারে।



















