টার্গেট ‘আয়রন ডোম’! ১ টনের মিসাইলে ইজরায়েল-আমেরিকা ধ্বংসের ছক ইরানের

তেহরান: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ এবার আরও ভয়াবহ আকার নিতে চলেছে। সতর্কতামূলক বা সীমিত প্রত্যাঘাতের পথ ছেড়ে এবার সরাসরি ধ্বংসলীলা চালানোর ছক কষছে ইরান। শীর্ষ গোয়েন্দা সূত্রের খবর, এবার ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us
Iran Heavy Warhead Missile

তেহরান: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ এবার আরও ভয়াবহ আকার নিতে চলেছে। সতর্কতামূলক বা সীমিত প্রত্যাঘাতের পথ ছেড়ে এবার সরাসরি ধ্বংসলীলা চালানোর ছক কষছে ইরান। শীর্ষ গোয়েন্দা সূত্রের খবর, এবার এক টনেরও বেশি ওজনের ‘হেভি-ওয়ারহেড’ যুক্ত মিসাইল মোতায়েন করতে শুরু করেছে তেহরান। যা একটি দীর্ঘস্থায়ী এবং উচ্চ-তীব্রতার যুদ্ধেরই অশনিসংকেত।

আইআরজিসি কমান্ডারের ঘোষণা ও নয়া রণকৌশল

ইরানের ‘ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস’-এর এরোস্পেস কমান্ডার জেনারেল মুসাভি এই নতুন রণকৌশলের কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, শত্রুপক্ষের এয়ার ডিফেন্স বা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত করে দিতে ‘স্যাচুরেশন অ্যাটাক’ এবং হাই-ইমপ্যাক্ট স্ট্রাইকের পথ বেছে নিচ্ছে ইরান।

   

কেন এই এক টনের ভারী মিসাইল? কী এর লক্ষ্য? Iran Heavy Warhead Missile

শীর্ষ গোয়েন্দা সূত্র জানাচ্ছে, ইরান এখন আর ছোটখাটো বা প্রতীকী হামলার পথে হাঁটতে রাজি নয়। তাদের লক্ষ্য সর্বাধিক ধ্বংসসাধন৷ শত্রুপক্ষের মজবুত সামরিক পরিকাঠামো, যেমন-এয়ারবেস, বাঙ্কার, বন্দর, লজিস্টিক হাব এবং কমান্ড সেন্টার সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়াই এখন তাদের মূল লক্ষ্য।

মারাত্মক ক্ষমতা: এক টনের বেশি ওজনের এই ওয়ারহেডগুলোর বিস্ফোরণ ক্ষমতা মারাত্মক এবং এগুলো কংক্রিটের মজবুত পরিকাঠামো ভেদ করতেও সক্ষম। এর ফলে ইজরায়েল এবং পশ্চিম এশিয়ায় থাকা আমেরিকার বিভিন্ন ঘাঁটিতে অনেক গভীরে গিয়ে আঘাত হানতে পারবে ইরান।

তুরুপের তাস ‘খোররামশহর-৪’

এই নয়া কৌশলে ইরানের প্রধান অস্ত্র হতে চলেছে ‘খোররামশহর-৪’ মিসাইল। মাঝারি পাল্লার এই মিসাইলটি প্রচুর পরিমাণ বিস্ফোরক বহনে সক্ষম, যা আঞ্চলিক যুদ্ধে ইরানের শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

‘আয়রন ডোম’ অকেজো করার ছক!

গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, ইরান একসঙ্গে ঝাঁকে ঝাঁকে মিসাইল ছোঁড়ার কৌশল নিয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো ইজরায়েলের ‘আয়রন ডোম’, ‘ডেভিডস স্লিং’ এবং ‘অ্যারো’ সিস্টেমের মতো অত্যাধুনিক এয়ার ডিফেন্সগুলোকে একসঙ্গে এতটাই ব্যস্ত করে দেওয়া, যাতে তাদের ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধকারী মিসাইলের ভাণ্ডার শেষ হয়ে যায়।

ইরানের মিসাইল নীতির এই আমূল পরিবর্তন এবং আগ্রাসী অবস্থান পশ্চিম এশিয়ায় এক বৃহত্তর এবং আরও ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।