দেশের সীমান্তের ওপারে শান্তির আলোচনায় পাকিস্তানের (US Level 3)প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশে বসে ছবি তুলতে দেখা গেছে বহুবার। তখন অনেকে ভেবেছিলেন দুই দেশের সম্পর্কে এসেছে নতুন সমীকরণ। কিন্তু মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্ট পাকিস্তানের জন্য লেভেল-৩ ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি জারি করে দিয়েছে। এই অ্যাডভাইজরি আমেরিকান নাগরিকদের পাকিস্তানে যাওয়ার আগে দ্বিতীয়বার ভাবতে বলছে।
এই অ্যাডভাইজরিতে সন্ত্রাসবাদ, অপরাধ, গৃহযুদ্ধের অশান্তি এবং অপহরণের ঝুঁকির কথা স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে। ২৬ জানুয়ারি ২০২৬-এ এই আপডেট দেওয়া হয়েছে, যা পাকিস্তানকে ‘রিকনসিডার ট্রাভেল’ ক্যাটাগরিতে রেখেছে অর্থাৎ গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে। ঘটনাটি আরও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছে কারণ এই ঘটনা ঘটেছে ডাভোসের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের পাশাপাশি ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন ‘বোর্ড অফ পিস’-এর স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পরপরই।
এই হাইপ্রোফাইল বিদেশি ফুটবলারকে দলে টানতে চাইছে ইন্টার কাশী
সেখানে ট্রাম্প গাজা যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন ও শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য এই বোর্ড গঠন করেছেন। শাহবাজ শরিফসহ ২৬টি দেশের নেতারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন, ট্রাম্পের পাশে বসে চার্টার স্বাক্ষর করেছেন। ছবিতে দেখা গেছে ট্রাম্প ও শাহবাজ পাশাপাশি, ট্রাম্পের মুখে হাসি, শাহবাজের দিকে তাকিয়ে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পরে বলেছেন, ট্রাম্পকে ‘শান্তির মানুষ’ বলে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং এই উদ্যোগকে ‘ঐতিহাসিক’ বলেছেন। এমনকি ট্রাম্প শাহবাজকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “আমার প্রিয় ফিল্ড মার্শাল কেমন আছেন?” যা পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে নির্দেশ করে। এই উষ্ণ মুহূর্তের পরই আমেরিকার এই কড়া অ্যাডভাইজরি অনেকের কাছে বিস্ময়কর।
অ্যাডভাইজরিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, পাকিস্তানে জঙ্গি হামলার ঝুঁকি রয়েছে, যা যেকোনো সময় ঘটতে পারে। বেলুচিস্তান প্রদেশ, খাইবার পাখতুনখোয়া (পূর্বতন এফএটিএ সহ) এবং লাইন অফ কন্ট্রোলের কাছাকাছি এলাকায় লেভেল-৪ ‘ডু নট ট্রাভেল’ সতর্কতা অব্যাহত রয়েছে অপহরণ, হত্যা, সশস্ত্র সংঘর্ষের কারণে। সারা দেশে অপরাধ বেড়েছে: পকেটমারি, ছিনতাই, ফোন চুরি। গৃহযুদ্ধের অশান্তি, বিশেষ করে শহরাঞ্চলে। আমেরিকা বলছে, জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো সক্রিয়, হামলা অপ্রত্যাশিত।
আন্তর্জাতিক মহলে এই ঘটনা পাকিস্তানের ভাবমূর্তিকে আরও ক্ষুণ্ন করেছে বলে মনে করেছেন কূটনীতিকরা। ট্রাম্পের ‘বোর্ড অফ পিস’ গাজার পুনর্গঠনের জন্য গঠিত হলেও, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা দেখে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন যে দেশ নিজের শান্তি রক্ষা করতে পারছে না, সে অন্যের শান্তিতে কতটা অবদান রাখতে পারবে? শাহবাজ সরকার এখন এই দ্বৈততা নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে বাধ্য। একদিকে ট্রাম্পের সঙ্গে ছবি, অন্যদিকে আমেরিকার সতর্কতা এটা পাকিস্তানের কূটনৈতিক অবস্থানের জটিলতা তুলে ধরছে।




















