নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই আমেরিকা ও ইরানের (Pakistan)সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ-এ এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও, তার আগেই পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে সংশয় প্রকাশ করলেন ভারতে নিযুক্ত ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আজার স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা পাকিস্তানকে বিশ্বাস করি না। আমেরিকাও খুব বেশি বিশ্বাস করে এমনটা ভাবার কারণ নেই। তারা মূলত একটি সহায়ক বা ফ্যাসিলিটেশন ভূমিকা পালন করছে, এর বেশি কিছু নয়।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
আসলে, চলতি সপ্তাহেই আমেরিকা ও ইরান একটি শর্তসাপেক্ষ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর এই সাময়িক বিরতি তৈরি করেছে সরাসরি আলোচনার সুযোগ। সেই আলোচনার স্থান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে ইসলামাবাদকে, যেখানে শুক্রবার মুখোমুখি বসতে পারেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।
তবে এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে একাধিক আন্তর্জাতিক মহল। সূত্রের খবরে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তান নিজেকে ‘শান্তির দূত’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করলেও, বাস্তবে হোয়াইট হাউস ইসলামাবাদকে চাপ দিয়েই ইরানের সঙ্গে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে বাধ্য করেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন প্রশাসন কয়েক সপ্তাহ ধরেই পাকিস্তানের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল, যাতে তারা তেহরানকে যুদ্ধ থামাতে রাজি করায় এবং গুরুত্বপূর্ণ স্ট্রেইট অফ হরমুজ পুনরায় খুলে দেওয়া যায়।
এই প্রসঙ্গে আজার বলেন, ইজরায়েলের ভরসা সম্পূর্ণরূপে আমেরিকার ওপরেই রয়েছে। তাঁর মতে, আগামী দুই সপ্তাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই সময়ের মধ্যে আমেরিকা এমন পদক্ষেপ নেবে, যা মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে। অন্যদিকে, পাকিস্তান ইতিমধ্যেই লেবাননে ইজরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা করেছে। তবে এই বিষয়ে কড়া জবাব দিয়েছেন আজার। তিনি জানান, ইজরায়েল তার নিরাপত্তার জন্য যা প্রয়োজন, তাই করবে এবং এই ধরনের সামরিক পদক্ষেপ ভবিষ্যতেও চলতে পারে।
প্রসঙ্গত, এর আগেও এক সাক্ষাৎকারে আজার গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী হিসেবে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। পাশাপাশি, তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, হামাসের সঙ্গে পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন, বিশেষ করে লস্কর-ই-তইবা-র যোগাযোগ বাড়ছে। এদিকে, ইরান ইতিমধ্যেই অভিযোগ করেছে যে লেবাননে ইজরায়েলের ধারাবাহিক হামলা এই সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তেহরানের মতে, এই ধরনের আক্রমণ চলতে থাকলে পুরো চুক্তি ভেঙে পড়তে পারে এবং আবারও হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা বাড়তে পারে।



















