মহারাষ্ট্রের নাসিক (Nashik IT) শহরে একটি বহুজাতিক আইটি সংস্থাকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্তা ও ধর্মান্তরকরণের অভিযোগে ইতিমধ্যেই ছয়জন শীর্ষস্থানীয় কর্মীকে গ্রেফতার করেছে নাসিক পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া ছয়জন অভিযুক্তের নাম আসিফ আনসারি, শফি শেখ, শাহরুখ কুরেশি, রাজা মেমন, তৌসিফ আত্তার এবং দানিশ শেখ। সপ্তম অভিযুক্তের পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, সংস্থাটিতে প্রায় ৩০০ জন কর্মী কাজ করেন এবং অভিযুক্তরা তাঁদের মধ্যে নেতৃত্বের ভূমিকায় ছিলেন, যার সুযোগ নিয়ে এই ধরনের কর্মকাণ্ড চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা সবাই ওই সংস্থার টিম লিডার পদে কর্মরত ছিলেন এবং তাঁরা পরিকল্পিতভাবে হিন্দু কর্মীদের, বিশেষত মহিলা কর্মীদের টার্গেট করতেন বলে অভিযোগ। অভিযোগকারীদের মধ্যে রয়েছেন অন্তত ৮ জন মহিলা এবং ১ জন পুরুষ কর্মী। তাঁদের দাবি, সম্পর্কের ফাঁদে ফেলে মানসিকভাবে প্রভাবিত করা, যৌন হেনস্তা, এমনকি ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগগুলির মধ্যে রয়েছে মহিলাদের সঙ্গে জোর করে সম্পর্ক তৈরি করা, শারীরিক নির্যাতন, শ্লীলতাহানি এবং ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত করা। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে জোর করে গরুর মাংস খাওয়ানোর অভিযোগও উঠেছে। এক মহিলা কর্মীর ক্ষেত্রে অভিযোগ, তিনি ধীরে ধীরে নিজের ধর্মীয় পরিচয় বদলাতে শুরু করেন বোরখা পরা এবং রমজানের রোজা রাখা শুরু করেন। এই পরিবর্তন লক্ষ্য করেই তাঁর পরিবার প্রথম পুলিশের দ্বারস্থ হয়।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই ৯টি এফআইআর দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে যৌন নির্যাতন, শ্লীলতাহানি এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার মতো গুরুতর ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নাসিক পুলিশ। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে শহরের পুলিশ কমিশনার একটি বিশেষ হেল্পলাইন চালু করেছেন, যেখানে কর্মক্ষেত্রে হেনস্তা বা জোরপূর্বক ধর্মান্তরের মতো অভিযোগ জানানো যাবে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন কর্মী এই হেল্পলাইনের মাধ্যমে যোগাযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে “লাভ জিহাদ” ইস্যু নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। যদিও এই শব্দবন্ধ নিয়ে বিভিন্ন মহলে মতভেদ রয়েছে, তবে এই মামলার অভিযোগগুলি সমাজে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহার, মানসিক প্রভাব বিস্তার এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ এই তিনটি বিষয় এখানে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট আইটি সংস্থার তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে তদন্ত চলাকালীন সংস্থার অভ্যন্তরীণ নীতিমালা ও কর্মীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।



















