বুদাপেস্ট: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা এখন এক বিপজ্জনক মোড়ে পৌঁছেছে। (US Iran deadline)পরিস্থিতি এতটাই তীব্র যে, কার্যত যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। এই আবহেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারির পর নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াল জেডি ভ্যানসের বক্তব্যে।
হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে এক সাংবাদিক বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন আজ রাত ৮টা (EST) পর্যন্ত ইরানের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষা করছে। তিনি বলেন, “আমরা আত্মবিশ্বাসী যে ইতিবাচক হোক বা নেতিবাচক আজ রাতের মধ্যে আমরা ইরানের কাছ থেকে একটি স্পষ্ট উত্তর পাব।” তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, পরিস্থিতি এখন ‘ডেডলাইন’-এর মধ্যে আটকে রয়েছে।
আরও দেখুনঃ নির্বাচনের আগে সুন্দরবনে ঘুঁটি সাজিয়ে বড় চাল শুভেন্দুর
ভ্যান্স আরও দাবি করেন, আমেরিকা ইতিমধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে তাদের সামরিক লক্ষ্য অনেকটাই পূরণ করেছে এবং এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা তেহরানের। তাঁর কথায়, “আমরা যা করার করেছি, এখন বল ইরানের কোর্টে।” তবে তিনি সতর্ক করে দেন, যদি ইরানের তরফে প্রত্যাশিত সাড়া না আসে, তাহলে আমেরিকার কাছে আরও কঠোর সামরিক বিকল্প রয়েছে, যা এখনও ব্যবহার করা হয়নি।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে অত্যন্ত কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কোনো সমঝোতা না হলে “একটি সম্পূর্ণ সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।” তাঁর এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক স্তরে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এই উত্তেজনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হল হরমুজ প্রণালী। বিশ্বজুড়ে তেল পরিবহনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ এটি। অভিযোগ, ইরান এই প্রণালীকে কার্যত অচল করে রেখেছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব পড়ছে। আমেরিকা চায়, ইরান দ্রুত এই পথ খুলে দিক এবং একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে সম্মত হোক। সময়ের হিসেব অনুযায়ী, আমেরিকার দেওয়া এই সময়সীমা মঙ্গলবার রাত ৮টা (EST), যা আন্তর্জাতিক সময় অনুযায়ী মধ্যরাতের সমান। ফলে বিশ্বজুড়ে নজর এখন ঘড়ির কাঁটার দিকে ঠিক কী সিদ্ধান্ত নেয় ইরান, সেটাই দেখার।




















