
তেহরান: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যেকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে এবার সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিশানা করলেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। তাঁর সাফ কথা, হুমকির ছায়ায় দাঁড়িয়ে ইরান কোনও আলোচনায় বসবে না। আলোচনার টেবিলকে ট্রাম্প যদি ‘আত্মসমর্পণের মঞ্চ’ মনে করেন, তবে ইরানও রণক্ষেত্রে নতুন ‘তাসের পাতা’ উল্টাতে প্রস্তুত।
পাক-ভূমে মেগা বৈঠক কি সফল হবে?
রয়টার্স সূত্রের খবর, আগামী দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পাকিস্তানে একটি উচ্চপর্যায়ের শান্তি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ইরান এই বৈঠকে যোগ দেওয়ার বিষয়টি ‘ইতিবাচকভাবে’ খতিয়ে দেখছে বলে জানালেও, ঘালিবাফের সাম্প্রতিক মন্তব্য নতুন করে ধোঁয়াশা তৈরি করেছে। ট্রাম্পের পক্ষ থেকে বন্দর অবরোধ এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ইরান জানিয়েছে, জোর করে তাদের নতিস্বীকার করানো যাবে না।
হরমুজ প্রণালীতে প্রভাব ও তেলের বাজারের অস্থিরতা US Iran Ceasefire Crisis
ইরান ও আমেরিকার এই সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত ১২ ঘণ্টায় মাত্র তিনটি জাহাজ এই পথ অতিক্রম করেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সমুদ্রপথে নয়া উত্তেজনা
উত্তজনা আরও বাড়িয়েছে আমেরিকার একটি পদক্ষেপ। বন্দর আব্বাসের দিকে যাওয়া একটি ইরানি মালবাহী জাহাজে মার্কিন নৌসেনার ‘মেরিন’ কমান্ডোরা হেলিকপ্টার থেকে নেমে তল্লাশি চালায়। পেন্টাগনের দাবি, ওই জাহাজে সামরিক কাজে ব্যবহৃত হতে পারে এমন সরঞ্জাম ছিল। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান একে ‘জলদস্যুতা’ বলে ব্যাখ্যা করেছে। এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-ও।
নিরাপত্তার চাদরে ইসলামাবাদ
সম্ভাব্য এই শান্তি বৈঠককে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদ জুড়ে প্রায় ২০ হাজার নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করেছে পাকিস্তান সরকার। যদিও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের এই বৈঠকে যোগ দেওয়া নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। বৃহস্পতিবার ভোরে (ইরান সময়) যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কি কোনো সমাধান সূত্র বেরোবে? নাকি আবারও রণক্ষেত্রের গর্জন শুনবে বিশ্ব? এখন সেদিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল।

