ইরানি পরমাণু কেন্দ্রে ২,০০০ পাউন্ডের বাঙ্কার বাস্টার বোমা হামলা আমেরিকার

তেহেরান: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আগুন (Middle East conflict) আরও তীব্র হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ইরানের ইসফাহান পারমাণবিক স্থাপনায় আমেরিকা ২,০০০ পাউন্ডের শক্তিশালী বাঙ্কার বাস্টার বোমা দিয়ে…

us-iran-bunker-buster-attack-isfahan-Middle East conflict

তেহেরান: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আগুন (Middle East conflict) আরও তীব্র হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ইরানের ইসফাহান পারমাণবিক স্থাপনায় আমেরিকা ২,০০০ পাউন্ডের শক্তিশালী বাঙ্কার বাস্টার বোমা দিয়ে হামলা চালিয়েছে। হামলার পর আকাশে কয়েক মিটার উঁচু আগুনের গোলা উঠতে দেখা গিয়েছে এবং বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী তৈরি হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে হামলার ফুটেজ প্রকাশ করেছেন। এই হামলা ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা না করার জন্য ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা অতিক্রম করার পরেই চালানো হয়েছে।

   

ইরানের পাল্টা আক্রমণ

ইরানের জবাবও এসেছে দ্রুত। পারস্য উপসাগরে একটি কুয়েতি তেল ট্যাঙ্কার ‘আল সালমি’-তে ইরানি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ট্যাঙ্কারটিতে আগুন ধরে যায়। জাহাজটিতে ১২ লক্ষ ব্যারেল সৌদি ও ৮ লক্ষ ব্যারেল কুয়েতি অপরিশোধিত তেল ছিল। দুবাইয়ের একটি আবাসিক এলাকায় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে চারজন আহত হয়েছেন।

ট্রাম্পের অবস্থান

ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি না খুলেও যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক অভিযান শেষ করতে পারে। তিনি চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে অভিযান শেষ করতে চান। ট্রাম্প বলেছেন, যাদের তেলের প্রয়োজন, তাদের নিজেদের সাহস দেখিয়ে হরমুজ প্রণালী খুলতে হবে। তিনি আরও বলেন, “যারা আমেরিকার সাহায্যে এগিয়ে আসেনি, তাদের জন্যও আমরা আর এগিয়ে যাব না।”

ন্যাটো দেশদের সঙ্গে উত্তেজনা

স্পেন ও ইতালি যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে দিতে অস্বীকার করেছে। ফ্রান্সও ইসরায়েলে অস্ত্র বহনকারী মার্কিন পরিবহন বিমানকে আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেয়নি। এতে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

ইরানের নতুন হুমকি

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস স্পষ্ট জানিয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র যদি স্থল অভিযান চালায়, তাহলে “আগ্রাসনকারীর পা কেটে ফেলা হবে”। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবফ বলেছেন, “শত্রুকে খুব কড়া জবাব দেওয়া হবে।” ইরান হরমুজ প্রণালীতে নতুন আইনি কাঠামো তৈরি করছে, যাতে নিষেধাজ্ঞায় জড়িত দেশগুলোর চলাচল সীমিত করা যায়।

বাংলার জন্য প্রভাব

পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের অনেক পরিবার পশ্চিম এশিয়ায় কর্মরত। এই সংঘাত যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে:

  • তেলের দাম আরও বাড়তে পারে
  • এলপিজি ও সোনার সরবরাহে চাপ পড়তে পারে
  • প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়বে

বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী এখন হুমকির মুখে। পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল।