চড়ছে পারদ! ২৪ ঘণ্টায় ধ্বংস জোড়া মার্কিন যুদ্ধবিমান, ইরানের নিশানায় ২ ব্ল্যাকহক কপ্টারও

তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে অভাবনীয় বিপর্যয়ের মুখে ওয়াশিংটন। পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সঙ্ঘাতের মাঝেই মাত্র চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে মাটিতে খসে পড়ল আমেরিকার দুটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান। শুধু তাই নয়, ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us
US Air Force crisis Middle East

তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে অভাবনীয় বিপর্যয়ের মুখে ওয়াশিংটন। পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সঙ্ঘাতের মাঝেই মাত্র চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে মাটিতে খসে পড়ল আমেরিকার দুটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান। শুধু তাই নয়, শত্রুপক্ষের মাটিতেই নিখোঁজ এক মার্কিন পাইলট, যাঁর খোঁজে এখন চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে তেহরান ও ওয়াশিংটন। এই বিপর্যয় মার্কিন বায়ুসেনার ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী’ হওয়ার দম্ভকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেনি, বরং মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধকে এক চরম বিপজ্জনক ও অনিশ্চিত মোড়ে এনে দাঁড় করিয়েছে।

আকাশপথে ২৪ ঘণ্টার দুঃস্বপ্ন

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন বায়ুসেনা এমন ধারাবাহিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়নি। অত্যন্ত দ্রুতগতিতে একের পর এক মার্কিন কপ্টার ও বিমান আক্রান্ত হয়েছে৷

   

সরাসরি ইরানের আকাশসীমায় মিসাইল হামলার শিকার হয়েছে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল (F-15E Strike Eagle)। বিমানে থাকা দুই ক্রু সদস্যের মধ্যে একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, অপরজন এখনও ইরানের মাটিতেই নিখোঁজ।

কুয়েতের আকাশে আক্রান্ত হয়ে ভেঙে পড়েছে একটি এ-১০ যুদ্ধবিমান। পাইলট ইজেক্ট করে (প্যারাস্যুটের সাহায্যে) প্রাণে বাঁচলেও, অপর একটি এ-১০ বিমান মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কোনওরকমে মাত্র একটি ইঞ্জিনের ভরসায় ঘাঁটিতে ফিরতে সক্ষম হয়েছে।

নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারে যাওয়া মার্কিন ‘ব্ল্যাকহক’ (HH-60W Jolly Green II) কপ্টারও ইরানি হামলার মুখে পড়ে। হামলায় ক্রু সদস্যরা আহত হলেও তাঁরা কোনওমতে প্রাণ হাতে নিয়ে ইরানি আকাশসীমা ছাড়তে সক্ষম হন।

এর পাশাপাশি, একটি এফ-১৬ (F-16) যুদ্ধবিমান এবং জ্বালানি ভরার কাজে যুক্ত কেসি-১৩৫ (KC-135) বিমানও আকাশে আপৎকালীন জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়।

নিখোঁজ পাইলটের খোঁজে মরিয়া ইরান US Air Force crisis Middle East

মার্কিন পাইলটকে জীবিত অথবা মৃত অবস্থায় ধরতে দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সতর্ক করা হয়েছে। ‘শত্রু’ পাইলটকে ধরিয়ে দিতে পারলে বা হত্যা করতে পারলে মোটা অঙ্কের পুরস্কারের ঘোষণাও করেছে প্রশাসন। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফের চরম হুঁশিয়ারি, এই যুদ্ধ এখন আর কেবল ‘সরকার বদলের’ মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সরাসরি মার্কিন পাইলটদের শিকার করার পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে।

দম্ভে আঘাত ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

হোয়াইট হাউসে বসে প্রতি মুহূর্তের আপডেট নিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ঘটনাটিকে লঘু করে দেখানোর চেষ্টায় তিনি বলেছেন, “না, একেবারেই নয়। এটা যুদ্ধ।” অথচ মাত্র কয়েকদিন আগেই তাঁর দম্ভোক্তি ছিল, “আমাদের বিমান তেহরানের ওপর দিয়ে উড়ে বেড়াচ্ছে, আর ওরা কিচ্ছু করতে পারছে না।” জোড়া যুদ্ধবিমান ধ্বংসের ঘটনা ট্রাম্পের সেই দাবিকে কার্যত ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের আংশিক বিকল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও যে মার্কিন বাহিনীর জন্য কতটা মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে, এই ঘটনাই তার প্রমাণ। অন্যদিকে, যুদ্ধ থামাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছে তেহরান। কুয়েতের জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলার জেরে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। আন্তর্জাতিক মহলের আশঙ্কা, মার্কিন পাইলটের নিখোঁজ হওয়া এবং আমেরিকার এই বিপুল সামরিক ক্ষয়ক্ষতি গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী এবং ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।