পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তের উত্তপ্ত ওয়াজিরিস্তান থেকে এল চাঞ্চল্যকর খবর। (TTP Pakistan)সূত্রের খবরে জানা গিয়েছে দলে দলে তুর্কি যোদ্ধারা তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানে (টিটিপি) যোগ দিয়েছে। তারা ওয়াজিরিস্তানে এসেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে জিহাদে অংশ নিতে। ওয়াজিরিস্তান লিভার নিউজ (WLVN)-এর মত সূত্র দাবি করছে, এই তুর্কি যোদ্ধারা টিটিপি-র সঙ্গে মিলে পাক সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে প্রতিশোধের পরিকল্পনা করছে।
টিটিপি, যাকে পাকিস্তানি তালিবান বলা হয়, ২০০৭ সালে গঠিত একটা দেওবন্দি জিহাদি গ্রুপ। তারা পাকিস্তান সরকারকে উল্টে দিয়ে শরিয়া আইন চালু করতে চায়। আফগান তালিবানের সঙ্গে তাদের ঐতিহাসিক যোগাযোগ থাকলেও, তারা স্বাধীনভাবে কাজ করে। ২০২১ সালে আফগান তালিবান কাবুল দখলের পর থেকে টিটিপি-র হামলা বেড়েছে। পাকিস্তানের দাবি, আফগান তালিবান টিটিপি-কে আশ্রয় দিচ্ছে, যা কাবুল অস্বীকার করে।
আরও দেখুনঃ সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ইস্টবেঙ্গলকে ‘বিদায়’ অস্কারের, লাল-হলুদে ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা
এই বছর পাকিস্তানে টিটিপি-র হামলায় শতাধিক সেনা ও নাগরিক নিহত হয়েছে। ওয়াজিরিস্তান (উত্তর ও দক্ষিণ) টিটিপি-র প্রধান ঘাঁটি। এখানে বিদেশি যোদ্ধাদের যোগদান নতুন নয় উজবেক, চেচেন, আরবরা আগে থেকেই ছিল। কিন্তু তুর্কি যোদ্ধাদের এভাবে যোগদান একটা নতুন মাত্রা যোগ করেছে।তুর্কি জিহাদিরা মূলত ইসলামিক জিহাদ ইউনিয়ন (IJU) বা অন্যান্য গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ছিল, যারা উজবেকিস্তান-কেন্দ্রিক।
কিন্তু ওয়াজিরিস্তানে তারা হাক্কানি নেটওয়ার্ক বা টিটিপি-র সঙ্গে মিলে কাজ করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো ছবি ও পোস্টে দেখা যাচ্ছে, তুর্কি যোদ্ধারা টিটিপি-র পতাকা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তারা বলছে, পাকিস্তান সেনাবাহিনী ‘তালিবান সাধারণ মানুষের প্রাণ নিচ্ছে তাই জিহাদ ফরজ। এই যোগদান টিটিপি-র আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
তুরস্কের সরকার এই ধরনের জিহাদিদের বিরুদ্ধে কঠোর, কিন্তু কিছু তুর্কি যোদ্ধা সিরিয়া-ইরাক থেকে এসে এখানে যোগ দিচ্ছে।পাকিস্তানের জন্য এটা বড় চ্যালেঞ্জ। সেনাবাহিনী ইতিমধ্যে উত্তর ওয়াজিরিস্তানে অপারেশন চালাচ্ছে। বিদেশি যোদ্ধাদের যোগদান মানে হামলার ধরন বদলাতে পারে যেমন সুইসাইড বোম্বিং, গেরিলা অ্যাটাক আরও বাড়তে পারে।
পাকিস্তান বলছে, আফগান তালিবান টিটিপি-কে আশ্রয় না দিলে এই সমস্যা কমবে। কিন্তু আফগান তালিবান বলছে, এটা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা। সীমান্তে সাম্প্রতিক সংঘর্ষে দুই পক্ষের সেনা নিহত হয়েছে। তুর্কি যোদ্ধাদের আগমন এই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।



















