‘কমনওয়েলথ স্পিকার্স কনফারেন্স’ থেকে বাংলাদেশ-পাকিস্তানকে ছেঁটে ফেললেন মোদী

নয়াদিল্লি: নয়াদিল্লি থেকে স্পষ্ট কূটনৈতিক বার্তা (Pakistan)। কমনওয়েলথ স্পিকার্স কনফারেন্সে (Commonwealth Speakers’ Conference) পাকিস্তান ও বাংলাদেশ দু’দেশকেই কার্যত বাইরে রাখল ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্যোগে…

pakistan-bangladesh-excluded-commonwealth-speakers-conference

নয়াদিল্লি: নয়াদিল্লি থেকে স্পষ্ট কূটনৈতিক বার্তা (Pakistan)। কমনওয়েলথ স্পিকার্স কনফারেন্সে (Commonwealth Speakers’ Conference) পাকিস্তান ও বাংলাদেশ দু’দেশকেই কার্যত বাইরে রাখল ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্যোগে ১৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই আন্তর্জাতিক সংসদীয় সম্মেলনে পাকিস্তানকে আমন্ত্রণই জানানো হয়নি।

অন্যদিকে বাংলাদেশ অংশ নিচ্ছে না, কারণ সে দেশের সংসদ বর্তমানে অধিবেশনে নেই। তবে কূটনৈতিক মহলের মতে, শুধু প্রশাসনিক কারণ নয় এর পেছনে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক ও কৌশলগত বার্তা।

   

কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলির সংসদের স্পিকার ও শীর্ষ প্রতিনিধিদের নিয়ে এই সম্মেলন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। সংসদীয় গণতন্ত্র, আইন প্রণয়ন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এই সব বিষয়েই আলোচনা হয় এই মঞ্চে। সেই মঞ্চ থেকেই এবার ভারত বুঝিয়ে দিল, সন্ত্রাসবাদ ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রশ্নে আর কোনও ‘বিশেষ ছাড়’ দেওয়া হবে না।

সীমান্তে উত্তেজনা! জৈশ জঙ্গিকে ঘিরে এনকাউন্টার

পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ না জানানো নতুন কিছু নয়। সীমান্তে সন্ত্রাসবাদে মদত, জঙ্গি সংগঠনগুলিকে আশ্রয় দেওয়া এবং বারবার ভারতের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক কার্যকলাপ এই সব কারণেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানকে ক্রমশ কোণঠাসা করছে নয়াদিল্লি। কমনওয়েলথ স্পিকার্স কনফারেন্সে তাদের অনুপস্থিতি সেই কৌশলেরই অংশ বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা।

বাংলাদেশের বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ। আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, সংসদ অধিবেশনে না থাকায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি আসছেন না। কিন্তু কূটনৈতিক সূত্রের মতে, ভারত চাইলে বিশেষ আমন্ত্রণ জানাতেই পারত। অতীতে বহু ক্ষেত্রেই এমন নজির রয়েছে। এবার তা না করাটাই ইঙ্গিতপূর্ণ। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলা, মন্দির ভাঙচুর এবং নির্যাতনের একাধিক অভিযোগ সামনে আসার পর ভারত যে বিষয়টি গভীরভাবে লক্ষ্য করছে, তা স্পষ্ট।

নয়াদিল্লির কূটনৈতিক অবস্থান এখন অনেক বেশি স্পষ্ট ও কঠোর। বার্তা একটাই যেখানে মানবাধিকার, সংখ্যালঘু সুরক্ষা এবং সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে আপস নেই, সেখানে সম্পর্কেও বিশেষ সুবিধা নেই। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একই মানদণ্ড প্রয়োগ করে ভারত বুঝিয়ে দিল, প্রতিবেশী হলেই আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হবে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু একটি সম্মেলনের সিদ্ধান্ত নয়, বরং বৃহত্তর বিদেশনীতি কৌশলের অংশ। মোদী সরকারের আমলে ভারত বারবার দেখিয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা ও সভ্যতাগত মূল্যবোধের প্রশ্নে অবস্থান স্পষ্ট থাকবে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা চাইলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলিকেও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।

এই সম্মেলনে আফ্রিকা, ইউরোপ, ক্যারিবিয়ান ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক কমনওয়েলথ দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকছেন। সেখানে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের অনুপস্থিতি আলাদা করে নজর কাড়ছে। অনেকেই বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে ভারতের নেতৃত্বের অবস্থান আরও একবার প্রতিষ্ঠিত হল।

সব মিলিয়ে, কমনওয়েলথ স্পিকার্স কনফারেন্সে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বাইরে থাকা নিছক কাকতালীয় নয়। এটি একটি সুস্পষ্ট কূটনৈতিক বার্তা সন্ত্রাস ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রশ্নে ভারত আর নীরব দর্শক থাকবে না। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মাপকাঠিতেও এবার ‘সমান আচরণ, কঠোর বার্তা’ এই নীতিতেই হাঁটছে নয়াদিল্লি।