‘রাইজিং লায়ন’ থামাতে আবার মধ্যস্থতায় ট্রাম্পের আগমন

ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের নিশ্চিহ্ন করার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (trump) ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “সমঝোতা করুন, নয়তো খুব দেরি হয়ে যাবে।” তিনি জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
trump as a mediator

ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের নিশ্চিহ্ন করার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (trump) ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “সমঝোতা করুন, নয়তো খুব দেরি হয়ে যাবে।” তিনি জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত ও প্রাণঘাতী সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করে, এবং ইসরায়েলের কাছে তার প্রচুর মজুত রয়েছে।

এক বিবৃতিতে ট্রাম্প লিখেছেন (trump)

ট্রুথ সোশ্যালে এক বিবৃতিতে ট্রাম্প (trump) লিখেছেন, “আমি ইরানকে বারবার সমঝোতার সুযোগ দিয়েছি। আমি তাদের কঠোর ভাষায় বলেছি, ‘শুধু করে ফেলুন,’ কিন্তু তারা যতই চেষ্টা করুক, তারা তা পারেনি। আমি বলেছিলাম, এর পরিণতি তাদের জানা, প্রত্যাশিত বা শোনা যেকোনো কিছুর চেয়ে ভয়াবহ হবে।

   

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করে, এবং ইসরায়েলের কাছে তার প্রচুর মজুত রয়েছে, আরও আসছে। তারা জানে কীভাবে তা ব্যবহার করতে হয়।” ট্রাম্প (trump) আরও বলেন, “ইরানের কিছু কট্টরপন্থী সাহসী কথা বলেছিল, কিন্তু তারা জানত না কী আসতে চলেছে। তারা এখন সবাই মৃত। এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।

ইতিমধ্যে ব্যাপক মৃত্যু ও ধ্বংস হয়েছে, কিন্তু এখনও সময় আছে এই গণহত্যা বন্ধ করার। পরবর্তী হামলাগুলো আরও নৃশংস হবে। ইরানকে সমঝোতা করতে হবে, নয়তো কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। আরও মৃত্যু, আরও ধ্বংস নয়, শুধু করে ফেলুন, দেরি হওয়ার আগে। ঈশ্বর সকলের মঙ্গল করুন।”

ইসরায়েলের ‘রাইজিং লায়ন’ অপারেশন

শুক্রবার ভোরে ইসরায়েল ইরানে ২০০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে বড় মাপের হামলা চালায়, যাকে তারা ‘প্রতিরোধমূলক আঘাত’ বলে বর্ণনা করেছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এই অভিযানের নাম দিয়েছেন ‘রাইজিং লায়ন’।

তিনি বলেন, এই অভিযানের লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রোগ্রামকে ধ্বংস করা, যা ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি। নেতানিয়াহু বলেন, “কিছুক্ষণ আগে ইসরায়েল ‘রাইজিং লায়ন’ অপারেশন শুরু করেছে, যা ইরানের হুমকি দূর করার জন্য একটি লক্ষ্যভিত্তিক সামরিক অভিযান। এই মিশন যতদিন প্রয়োজন ততদিন চলবে।”

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক্স-এ জানিয়েছে, হামলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অফ স্টাফ, (trump) ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার এবং ইরানের জরুরি কমান্ডের কমান্ডার নিহত হয়েছেন। আইডিএফ বলেছে, “এই তিনজন নৃশংস গণহত্যাকারী, যাদের হাতে আন্তর্জাতিক রক্ত লেগে আছে। তাদের ছাড়া পৃথিবী এখন আরও নিরাপদ।”

নেতানিয়াহুর অভিযোগ

নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইরান বিশ্বব্যাপী সতর্কতা উপেক্ষা করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রোগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “ইরান গত কয়েক বছরে নয়টি পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য পর্যাপ্ত উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম তৈরি করেছে। তারা এই ইউরেনিয়ামকে অস্ত্রে রূপান্তরের পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং কয়েক মাসের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারে।”

তিনি এই পরিস্থিতির তুলনা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্ববর্তী সময়ের সঙ্গে করে বলেন, “আশি বছর আগে ইহুদি জাতি নাৎসি শাসনের হলোকাস্টের শিকার হয়েছিল। আজ ইহুদি রাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক হলোকাস্টের শিকার হতে অস্বীকার করছে।”

তিনি বলেন, (trump) “ইসরায়েল তাদের কখনোই আমাদের ধ্বংসের উপায় তৈরি করতে দেবে না। আমরা ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ প্রোগ্রাম, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রোগ্রাম এবং নাটানজের প্রধান সমৃদ্ধকরণ সুবিধায় আঘাত করেছি। আমরা ইরানের শীর্ষ পারমাণবিক বিজ্ঞানী এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রোগ্রামের কেন্দ্রে আঘাত করেছি।”

ইরানের মিসাইল হুমকি

নেতানিয়াহু ইরানের মিসাইল উন্নয়নকে হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, (trump) “গত বছর ইরান ইসরায়েলের উপর ৩০০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করেছিল। প্রতিটি মিসাইলে এক টন বিস্ফোরক ছিল, যা শত শত মানুষের জীবন হুমকির মুখে ফেলে। শীঘ্রই এই মিসাইলগুলো পারমাণবিক পেলোড বহন করতে পারে, যা লাখ লাখ মানুষের জীবন হুমকির মুখে ফেলবে। ইরান তিন বছরের মধ্যে ১০,০০০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরির পরিকল্পনা করছে। এটি অসহনীয় হুমকি। এটি থামাতে হবে।”

ইরানের আঞ্চলিক হুমকি

নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইরান ইসরায়েলকে ধ্বংস করার জন্য আঞ্চলিক প্রক্সি ব্যবহার করে এবং সরাসরি হামলা চালাচ্ছে। তিনি (trump) বলেন, “ইরান গত বছর দুবার সরাসরি আমাদের উপর হামলা করেছে। আমরা হামাসকে ধ্বংস করেছি, হিজবুল্লাহকে বিধ্বস্ত করেছি এবং সিরিয়া ও ইয়েমেনে ইরানের প্রক্সিদের উপর আঘাত করেছি। আমরা নিজেদের রক্ষা করে আমাদের আরব প্রতিবেশীদেরও রক্ষা করছি।”

তিনি ইরানি জনগণের উদ্দেশে বলেন, “আমাদের লড়াই আপনাদের সঙ্গে নয়। আমাদের লড়াই সেই নৃশংস স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে, যারা আপনাদের ৪৬ বছর ধরে নির্যাতন করছে। আমি বিশ্বাস করি, আপনাদের মুক্তির দিন কাছাকাছি।”

বিশ্বব্যাপী হুমকি

নেতানিয়াহু সতর্ক করে বলেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল বিশ্বের জন্য হুমকি। তিনি বলেন, “ইরান তার সন্ত্রাসবাদী প্রক্সিদের পারমাণবিক অস্ত্র দিতে চায়। এটি পারমাণবিক সন্ত্রাসবাদের দুঃস্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেবে। ইরানের মিসাইলের ক্রমবর্ধমান পরিসীমা ইউরোপ এবং আমেরিকার শহরগুলোকে হুমকির মুখে ফেলবে।”

চাকরিহারা কর্মীদের দাবির প্রতি সাড়া দিতে বিধানসভায় আলোচনা শুরু, স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক

ভারতের উপর প্রভাব

ইরান-ইসরায়েল সংঘাত ভারতের জন্য গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে(trump)। ভারত মধ্যপ্রাচ্য থেকে ৪৪% তেল আমদানি করে, এবং এই উত্তেজনা তেলের দাম বাড়াতে পারে। পশ্চিমে যাওয়া ফ্লাইটের রুট বন্ধ হতে পারে, এবং মধ্যপ্রাচ্যে ৯০ লক্ষ ভারতীয় প্রবাসী ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।

ইসরায়েলের হামলা এবং ট্রাম্পের (trump) হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। এই সংঘাতের ফলে বিশ্ব অর্থনীতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রভাবিত হতে পারে। ভারতকে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google