কাবুল: আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের পুল-ই-চারখি এলাকায় ফের ধ্বংসযজ্ঞ।(Pakistan airstrike) গত রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর চালানো বিমান হামলায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের খবর পাওয়া গিয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, এই হামলায় অন্তত ১২টিরও বেশি আবাসিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। পুল-ই-চারখি কাবুলের একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, যেখানে তালিবানের সামরিক স্থাপনা থাকলেও চারপাশে ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক পাড়া রয়েছে।
হামলার পর সকাল থেকে ধোঁয়া আর ধুলোয় ঢেকে গেছে এলাকাটি। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে উদ্ধারকার্য চলছে, আর স্থানীয়রা ভয়ে কাঁপছে।পাকিস্তান এয়ার ফোর্স (পিএএফ) এই হামলা চালিয়েছে ‘ঘজব লিল হক’ অভিযানের অংশ হিসেবে। পাকিস্তানের দাবি, হামলা লক্ষ্য ছিল তালিবানের সামরিক ঘাঁটি, ব্রিগেড হেডকোয়ার্টার এবং তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) সংশ্লিষ্ট স্থান। পুল-ই-চারখিতে তালিবানের একটি বড় সামরিক কম্পাউন্ড ছিল বলে জানা গেছে।
আরও দেখুনঃ বিদেশের মাটিতে গর্জে উঠবে ভারতীয় অস্ত্র! আর্মেনিয়ায় পাঠানো হল পিনাকার প্রথম ব্যাচ
পাকিস্তানি সূত্র বলছে, প্রেসিশন-গাইডেড মিসাইল ও ড্রোন ব্যবহার করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, হামলা এত তীব্র ছিল যে আশপাশের বাড়িঘরে বোমা পড়েছে। ছাদ উড়ে গেছে, দেয়াল ধসে পড়েছে, অনেক জায়গায় আগুন লেগেছে। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, “রাতের অন্ধকারে বিমানের গর্জন শুনে ঘুম ভেঙে গেল। তারপর একের পর এক বিস্ফোরণ। আমরা পালাতে চেয়েছিলাম, কিন্তু ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকে চাপা পড়েছে।”
তালিবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ নিশ্চিত করেছেন যে কাবুল, কান্দাহার, পাক্তিয়া সহ একাধিক এলাকায় পাকিস্তানি হামলা হয়েছে। তারা দাবি করেছে, হামলা মূলত সামরিক লক্ষ্যে হলেও বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পুল-ই-চারখিতে ধ্বংস হওয়া বাড়িগুলোর মধ্যে নারী-শিশুরা আটকে পড়েছে বলে আশঙ্কা। হতাহতের সঠিক সংখ্যা এখনও জানা যায়নি, কিন্তু স্থানীয়রা বলছেন, কয়েকজন নিহত ও অনেক আহত।
উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মানুষ বের করার চেষ্টা করছে।এই ঘটনা আফগানিস্তান-পাকিস্তান সম্পর্কের চরম উত্তেজনার অংশ। ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে দুই দেশের মধ্যে সীমান্তে সংঘর্ষ, টিটিপি-সংশ্লিষ্ট হামলা এবং প্রতিশোধমূলক অভিযান চলছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ‘ওপেন ওয়ার’ ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, আফগান ভূখণ্ড থেকে পাকিস্তানে হামলা বন্ধ না হলে কঠোর পদক্ষেপ চলবে।
অন্যদিকে তালিবান বলছে, এই হামলা আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন। তারা উপযুক্ত জবাব দেবে। কাবুলে হামলার পর স্থানীয়রা ভয়ে রাস্তায় নেমেছে, অনেকে শহর ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।তালিবানের তরফ থেকে প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি এসেছে। তারা বলছে, পাকিস্তানের এই ‘চরম প্রতিশোধ’ তারা চুপ করে মেনে নেবে না। সামরিক অভিযানের মাধ্যমে জবাব দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে সীমান্তে আরও সংঘর্ষের খবর আসছে। আফগান বাহিনী পাকিস্তানি ড্রোন গুলি করে ফেলেছে বলে দাবি করা হয়েছে।



















