‘ওদের তেলের প্রয়োজন নেই!’ ইরান যুদ্ধের শেষলগ্নে ট্রাম্পের হুঙ্কার

ওয়াশিংটন: “মধ্যপ্রাচ্যের উপর আমরা আর একেবারেই নির্ভরশীল নই… ওদের তেলের আমাদের কোনও প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র মিত্র দেশগুলোর পাশে দাঁড়াতেই আমরা সেখানে রয়েছি।” দেশজুড়ে হাই-ভোল্টেজ প্রাইম-টাইম…

Trump Middle East oil policy

ওয়াশিংটন: “মধ্যপ্রাচ্যের উপর আমরা আর একেবারেই নির্ভরশীল নই… ওদের তেলের আমাদের কোনও প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র মিত্র দেশগুলোর পাশে দাঁড়াতেই আমরা সেখানে রয়েছি।” দেশজুড়ে হাই-ভোল্টেজ প্রাইম-টাইম ভাষণে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নীতিকে ঠিক এই ভাষাতেই ব্যক্ক করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা এবং দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির আবহে ট্রাম্প বোঝাতে চাইলেন, এই যুদ্ধ কোনওভাবেই তেল বা সম্পদের জন্য নয়, বরং এটি মিত্রদের প্রতি আমেরিকার কৌশলগত দায়বদ্ধতা।

যুদ্ধ শেষের পথে, দাবি ট্রাম্পের

পশ্চিম এশিয়ার তেলের ওপর নির্ভরতা অস্বীকার করলেও, ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে যুদ্ধ এখনই থামছে না। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র চূড়ান্ত পর্যায়ের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, কাজ সম্পূর্ণ করতে মার্কিন সেনার আরও “দুই থেকে তিন সপ্তাহ” সময় লাগবে। একইসঙ্গে তাঁর জোরদার দাবি, ইরানের সামরিক পরিকাঠামো কার্যত ধ্বংস হয়ে গিয়েছে৷ তাদের “নৌবাহিনী শেষ” এবং “বায়ুসেনা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।” উল্লেখ্য, মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলায় আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর থেকেই এই সঙ্ঘাত চরম আকার ধারণ করে এবং গোটা পশ্চিম এশিয়ার সমীকরণ বদলে যায়।

   

নীতিগত স্ববিরোধ এবং ঘরোয়া রাজনীতি Trump Middle East oil policy

প্রেসিডেন্টের এই ভাষণের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, আমেরিকার যদি মধ্যপ্রাচ্যের তেলের প্রয়োজনই না থাকে, তবে তারা সেখানে সামরিকভাবে এতটা গভীরভাবে জড়িয়ে কেন? ট্রাম্পের যুক্তি, ইজরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মতো মিত্রদের রক্ষা করে আমেরিকা সেখানে স্থিতিশীলতা বজায় রাখছে। কিন্তু বাস্তবে, বিশ্বজুড়ে তেলের বাজার একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার জেরে খোদ আমেরিকাতেও জ্বালানির দাম হু হু করে বাড়ছে, যার সরাসরি কোপ পড়ছে মার্কিন ক্রেতাদের পকেটে।

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ট্রাম্পের এই ভাষণের নেপথ্যে রয়েছে আসন্ন মিড-টার্ম নির্বাচন এবং ঘরোয়া রাজনীতির প্রবল চাপ। সাম্প্রতিক সমীক্ষা বলছে, আর্থিক নীতি সামলানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পের রেটিং নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩১ শতাংশে। একদিকে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, অন্যদিকে কমতে থাকা জনপ্রিয়তা, এই জোড়া ফলার মুখে দাঁড়িয়ে নিজের ইমেজ এবং জনমত রক্ষার্থেই ট্রাম্প এই কড়া বার্তা দিয়েছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

লক্ষ্যহীন এক্সিট রুট?

ট্রাম্প “কাজ শেষ করার” কথা বললেও, আদতে এই যুদ্ধের পরিণতি কী হবে বা আমেরিকা কীভাবে সেখান থেকে বেরিয়ে আসবে (Exit Strategy), তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গিয়েছে। শুধু সামরিক পরিকাঠামো ধ্বংস করলেই যে কৌশলগত জয় আসে না, তা ইতিহাসের পাতা ঘাঁটলেই স্পষ্ট। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, “আমাদের ওদের তেলের প্রয়োজন নেই”, এই মন্তব্যটি আগামী দিনে বাস্তবের মাটিতে কতটা টেকে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে।