১৩০০ র বেশি মৃত্যু! তেহরানের রেভল্যুশন স্কোয়ারে জনজোয়ার

তেহরান: তেহরানের রেভল্যুশন স্কোয়ারে (Enghelab Square) আজ এক বিশাল জনসমুদ্র দেখা গিয়েছে। রোজা রাখা হাজার হাজার তেহরানবাসী সমবেত হয়েছেন সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহতদের শেষকৃত্য…

tehran-enghelab-square-funeral-procession-airstrike-victims-iran

তেহরান: তেহরানের রেভল্যুশন স্কোয়ারে (Enghelab Square) আজ এক বিশাল জনসমুদ্র দেখা গিয়েছে। রোজা রাখা হাজার হাজার তেহরানবাসী সমবেত হয়েছেন সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহতদের শেষকৃত্য ও শোকযাত্রায় অংশ নিতে। দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই শোকানুষ্ঠান দক্ষিণ তেহরানের শহীদদের মাজার (শ্রাইন অফ দ্য মার্টার্স)-এর দিকে এগিয়ে চলেছে। এতে সম্মান জানানো হচ্ছে সামরিক কমান্ডার থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিকদের সকলকে, যারা মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।

   

রমজানের ২১তম দিনে এই শোকযাত্রা শুরু হয়েছে, যা ইমাম আলী (আ.)-এর শাহাদতের বার্ষিকী। রোজাদার জনতা উপবাস ভঙ্গ না করে এসেছেন, যা তাদের ধর্মীয় অনুভূতি ও প্রতিরোধের প্রতিশ্রুতিকে আরও গভীর করেছে। রাস্তায় লোকে লোকারণ্য কালো পোশাক পরা মানুষ, হাতে ছবি, ফুলের মালা, ইরানি পতাকা। অনেকে কাঁদছেন, অনেকে চিৎকার করে বলছেন, “মৃত্যু আমেরিকা ও ইসরায়েলের জন্য!” “শহীদদের রক্ত বৃথা যাবে না!” শোকযাত্রায় নারী-পুরুষ, বয়স্ক-তরুণ সবাই মিলে একসঙ্গে হাঁটছেন।

আরও দেখুনঃ দণ্ডকারণ্যে আত্মসমর্পণ ১০৮ মাওবাদীর! উদ্ধার ৩ কোটি নগদ

কফিনগুলো ইরানি পতাকায় মোড়ানো, ফুল দিয়ে সাজানো।ইরানি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১,৩০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২০০-এর বেশি শিশু এবং স্বাস্থ্যকর্মীও রয়েছে। নিহতদের মধ্যে আইআরজিসি-র উচ্চপদস্থ কমান্ডার, গোয়েন্দা কর্মকর্তা, সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ এবং সাধারণ নাগরিক রয়েছেন। অনেক পরিবারের সদস্য একসঙ্গে প্রাণ হারিয়েছেন। এই শোকযাত্রা শুধু শোক নয়, প্রতিশোধের প্রতিজ্ঞাও।

ইরানি নেতৃত্ব বলছেন, এই হামলা ‘সন্ত্রাসবাদী’ এবং এর জবাব দেওয়া হবে।শোকযাত্রা রেভল্যুশন স্কোয়ার থেকে শুরু হয়ে দক্ষিণ তেহরানের বেহেশত-ই জাহরা কবরস্থানের দিকে এগোচ্ছে, যেখানে শহীদদের মাজার অবস্থিত। পথে লোকজন ফুল ছুড়ছেন, কুরআন তিলাওয়াত হচ্ছে, দোয়া পড়া হচ্ছে। অনেকে বলছেন, “আমরা রোজা রেখে এসেছি, কারণ শহীদদের প্রতি আমাদের ভালোবাসা ও ধৈর্যের পরীক্ষা।”

এই অনুষ্ঠানে ইরানের সরকারি কর্মকর্তা, ধর্মীয় নেতা এবং সামরিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত।এই যুদ্ধ ফেব্রুয়ারি শেষ থেকে শুরু হয়েছে, যখন আমেরিকা-ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। ইরান প্রতিশোধমূলক হামলা করছে, কিন্তু তেহরানে আক্রমণ চলছে। তেল শোধনাগার, সামরিক ঘাঁটি, এমনকি আবাসিক এলাকায় হামলা হয়েছে। এই শোকযাত্রা ইরানের জনগণের ঐক্য ও প্রতিরোধের প্রতীক। অনেকে বলছেন, “এই শহীদরা আমাদের রক্ত দিয়ে দেশ রক্ষা করেছেন। আমরা তাদের পথ অনুসরণ করব।”