কলকাতা: দেশে মাওবাদী দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর বড় সাফল্য। (Maoists Surrender)দণ্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটির মোট ১০৮ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছে নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে। এই আত্মসমর্পণের পর তাদের কাছ থেকে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তা বাহিনী একটি বড় অভিযান চালায় এবং সেখানে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, সোনা ও আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র।
নিরাপত্তা সূত্রে জানা গিয়েছে, আত্মসমর্পণ করা মাওবাদীদের জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু গোপন ঘাঁটি এবং অস্ত্র মজুতের জায়গার খবর পাওয়া যায়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে জঙ্গলে বিশেষ অভিযান শুরু করে যৌথ বাহিনী। এই অভিযানে একটি বড় মাওবাদী ডাম্প বা গোপন মজুতঘাঁটির সন্ধান পায় নিরাপত্তা বাহিনী।
আরও দেখুনঃ ভোটের আগে সৌমেন মহাপাত্রর নিরাপত্তা তুলে নিল প্রশাসন, গুঞ্জন তমলুক জুড়ে
অভিযান চালিয়ে সেখানে থেকে উদ্ধার করা হয়েছে মোট ₹৩.৬১ কোটি নগদ টাকা। নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, দেশের মাওবাদী বিরোধী অভিযানের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনা। শুধু নগদ টাকা নয়, উদ্ধার হয়েছে ১ কেজি সোনাও, যার বাজারমূল্য প্রায় ₹১.৬৪ কোটি বলে অনুমান করা হচ্ছে।
অধিকারিকদের মতে, এই বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ এবং সোনা মাওবাদী সংগঠনের আর্থিক শক্তির একটি বড় উৎস ছিল। বিভিন্ন চাঁদাবাজি, অবৈধ লেনদেন এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের থেকে জোর করে আদায় করা টাকাই এই ফান্ডের মূল উৎস বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
এছাড়াও ওই গোপন ডাম্প থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র। এর মধ্যে রয়েছে একাধিক AK-47 রাইফেল, SLR, LMG, BGL সহ বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ গুলি ও গোলাবারুদ। নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, এই অস্ত্রগুলি ব্যবহার করে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করা হতে পারত।
অভিযানকারী বাহিনীর এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “আত্মসমর্পণ করা মাওবাদীদের দেওয়া তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই আমরা এই ডাম্পের সন্ধান পাই। এত বড় পরিমাণ নগদ টাকা ও অস্ত্র উদ্ধার হওয়া মাওবাদীদের সংগঠনগত শক্তির ওপর বড় আঘাত।” এদিকে ১০৮ জন মাওবাদীর আত্মসমর্পণকেও বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে প্রশাসন। নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা অপারেশন, উন্নয়নমূলক প্রকল্প এবং সরকারের পুনর্বাসন নীতির ফলেই এত বড় সংখ্যায় মাওবাদীরা মূল স্রোতে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, আত্মসমর্পণ করা মাওবাদীদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা, প্রশিক্ষণ এবং সমাজে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে, যা ভবিষ্যতে মাওবাদী বিরোধী অভিযানে কাজে লাগতে পারে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই আত্মসমর্পণ এবং বিপুল নগদ অর্থ ও অস্ত্র উদ্ধার মাওবাদী সংগঠনের ওপর বড় ধাক্কা। এর ফলে জঙ্গলে তাদের কার্যকলাপ অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।



















