সীমান্তে ড্রোন হামলা করে পাকিস্তানে রক্তগঙ্গা বইয়ে চরম প্রতিশোধ তালিবানদের!

কাবুল: আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে (drone strikes)যে, তাদের বিমানবাহিনী গতরাতে পাকিস্তানের বালুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে আইএসআইএস-সংশ্লিষ্ট একাধিক স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে।…

taliban-drone-strikes-pakistan-isis-targets-balochistan-khyber-pakhtunkhwa

কাবুল: আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে (drone strikes)যে, তাদের বিমানবাহিনী গতরাতে পাকিস্তানের বালুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে আইএসআইএস-সংশ্লিষ্ট একাধিক স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে। গুলিস্তান, শাকার আব এবং কাম্বার খেলসহ বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। মন্ত্রণালয়ের দাবি, এসব স্থানগুলো আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

সব নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।এই হামলাকে তালিবান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ‘প্রতিশোধমূলক’ বলে বর্ণনা করেছে। তারা স্পষ্ট করে বলেছে, আফগানিস্তান তার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য কোনো হুমকি সহ্য করবে না এবং প্রয়োজনে সব ধরনের সক্ষমতা ব্যবহার করে হুমকি নির্মূল করবে। এ ঘটনা দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও অবিশ্বাসের নতুন এক অধ্যায় যোগ করেছে।

   

আরও দেখুনঃ ভারতের চৌকাঠ পেরনোর স্পর্ধা! চিনা ‘হাঙ্গর’ নিয়ে বঙ্গোপসাগরে ছক কষছে পাকিস্তান

পাকিস্তানের দিক থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে স্থানীয় সূত্র ও সামাজিক মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়েছে যে, কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং ধোঁয়া দেখা গেছে। আফগানিস্তানের এই ড্রোন অভিযানকে অনেকে পাকিস্তানের আগের হামলার জবাব হিসেবে দেখছেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তান আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে কয়েক দফা বিমান হামলা চালিয়েছে, যাতে বেসামরিক নাগরিকসহ নারী ও শিশুরা প্রাণ হারিয়েছে বলে তালিবান সরকার দাবি করেছে।

জুনের ১০ তারিখের একটি হামলায় ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে বলে আফগান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাদের মধ্যে ১১ জন শিশু।দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি অনেক পুরনো। তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) ও আইএসআইএস-খোরাসানের মতো গোষ্ঠীগুলোকে কেন্দ্র করে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ চলছে। পাকিস্তান বলে আসছে, আফগান ভূখণ্ড থেকে টিটিপি জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে এবং সেখান থেকে পাকিস্তানে হামলা চালানো হচ্ছে।

অন্যদিকে আফগান তালিবানরা অস্বীকার করে বলছে, তারা অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না। এই পারস্পরিক অবিশ্বাস এখন সশস্ত্র সংঘাতের রূপ নিয়েছে।আফগান তালেবানের এই ড্রোন হামলা তাদের বিমান সক্ষমতার একটি প্রদর্শনী বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাদের ড্রোনগুলো এখনও অত্যাধুনিক নয়, তবু সীমান্তের ওপারে আঘাত করার ক্ষমতা দেখিয়ে তারা একটি বার্তা দিতে চেয়েছে।