প্রতিশোধ শুরু! তালিবান ড্রোন হামলায় উড়ে গেল পাকিস্তানের চিনা ডিফেন্স

কাবুল: ৪০০ জনের প্রাণের বদলা নিল আফগানিস্তান। (Taliban Drone Strike)রাওয়ালপিন্ডির চকলালা ক্যান্টনমেন্টে আজ ভোরের আলো ফোটার আগেই আকাশ ফেটে পড়ল বিস্ফোরণের শব্দে। আফগান তালেবান বাহিনী…

taliban-drone-strike-pakistan-hq9b-chaklala-rawalpindi

কাবুল: ৪০০ জনের প্রাণের বদলা নিল আফগানিস্তান। (Taliban Drone Strike)রাওয়ালপিন্ডির চকলালা ক্যান্টনমেন্টে আজ ভোরের আলো ফোটার আগেই আকাশ ফেটে পড়ল বিস্ফোরণের শব্দে। আফগান তালেবান বাহিনী দাবি করেছে যে, তারা ড্রোন হামলা চালিয়ে পাকিস্তানের একটি চাইনিজ তৈরি HQ-9B এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে। এই হামলা সরাসরি পাকিস্তানের সামরিক সদর দফতরের কাছে চকলালা ক্যান্টনমেন্টে চালানো হয়েছে বলে আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন।

তালেবানের দাবি, এটা প্রতিশোধমূলক আক্রমণ। রাতেই পাকিস্তানের এয়ারস্ট্রাইকে কাবুলের একটি মাদক নিরাময় হাসপাতালে অন্তত ৪০০ জন নিরীহ মানুষ নিহত হওয়ার জবাব।কাবুলের সেই ভয়াবহ হামলার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। সোমবার রাতে পাকিস্তানি বিমান থেকে ফেলা বোমায় কাবুলের একটি রিহ্যাবিলিটেশন হাসপাতাল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। তালেবান সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শত শত মাদকাসক্ত রোগী, তাদের পরিবারের সদস্য, চিকিৎসক ও স্বেচ্ছাসেবকরা ছিলেন সেখানে।

Advertisements

আরও দেখুনঃ ভোটের মুখে মমতার ভাঁওতা! ডিএ পেলেও তুলত পারবেন না কর্মীরা

মৃতের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়েছে, আহত প্রায় ২৫০। ধ্বংসস্তূপ থেকে এখনও লাশ উদ্ধার হচ্ছে। এক প্রত্যক্ষদর্শী কাঁদতে কাঁদতে বলেছেন, “রমজানের এই সময়ে আমরা শান্তি চেয়েছিলাম। কিন্তু আকাশ থেকে মৃত্যু নেমে এলো। আমার ভাই এখানে নতুন জীবন শুরু করতে এসেছিল, সব শেষ।”পাকিস্তান অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তারা কোনো হাসপাতাল লক্ষ্য করেনি। পাকিস্তানি সামরিক মুখপাত্র জানিয়েছেন, হামলা ছিল সুনির্দিষ্ট তালিবান সামরিক ঘাঁটি ও জঙ্গি আস্তানার ওপর। কিন্তু আফগান কর্তৃপক্ষের দাবি, এটা ইচ্ছাকৃত যুদ্ধাপরাধ।

এই ঘটনার পর তালেবান নেতৃত্ব প্রতিশোধের ঘোষণা দিয়েছিল। আর আজ সেই প্রতিশোধ এসে পৌঁছেছে পাকিস্তানের হৃদয়স্থলে।আফগান সূত্র জানিয়েছে, ড্রোনগুলো স্থানীয়ভাবে তৈরি কিন্তু অত্যাধুনিক সম্ভবত মায়ানমার বা অন্য কোনো উৎস থেকে প্রযুক্তি নেয়া। হামলায় HQ-9B সিস্টেমটি, যা চীনের সবচেয়ে উন্নত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমগুলোর একটি, পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

এই সিস্টেম পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডির আকাশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তালেবানের একজন কমান্ডার বলেছেন, “আমরা দেখিয়ে দিয়েছি, আমাদের হাতে এখন শক্তিশালী অস্ত্র আছে। পাকিস্তান যদি নিরীহ মানুষ মারে, তাহলে আমরাও তাদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত করব।”পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ আসেনি যে HQ-9B সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।

তবে সামরিক সূত্র জানিয়েছে, চকলালা এলাকায় বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং ধোঁয়ার স্তম্ভ উঠেছে। পাকিস্তানি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কয়েকটি ড্রোন আটকাতে সক্ষম হলেও, অন্তত একটি বা একাধিক ড্রোন লক্ষ্যে পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি আগেই বলেছিলেন যে, তালেবানের ড্রোন হামলা “রেড লাইন” অতিক্রম করেছে এবং এর গুরুতর পরিণতি হবে।

এই ঘটনা দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে যুদ্ধের আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সীমান্তে সংঘর্ষ, ড্রোন হামলা, এয়ারস্ট্রাইক সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অস্থির। পাকিস্তান অভিযোগ করে যে, তালেবান তাদের মাটি থেকে টিটিপি-সহ জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে। অন্যদিকে তালেবান বলছে, পাকিস্তান তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে এবং নিরীহ মানুষকে লক্ষ্য করছে।