কলকাতা: রাজ্য সরকারের ডিএ বকেয়া সংক্রান্ত সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর নতুন করে ক্ষোভে ফুঁসছে সরকারি কর্মচারীদের একাংশ (DA Arrears)। বহুদিন ধরেই মহার্ঘ ভাতা (DA) বকেয়া পরিশোধের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন তাঁরা। কিন্তু সর্বশেষ ঘোষণার পর সেই ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বকেয়া ডিএ দু’টি কিস্তিতে মেটানোর কথা বলা হয়েছে। তবে এই ঘোষণায় খুশি নন কর্মচারীদের বড় অংশ। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের বকেয়া মেটানোর ক্ষেত্রে স্পষ্টতা নেই, বরং একাধিক শর্ত আরোপ করা হয়েছে, যা বাস্তবে কর্মীদের আর্থিক সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করতে পারে।
আরও দেখুনঃ মণিপুরের ভারত-মায়ানমার সীমান্তে গ্র্রেফতার ৫ বিদ্রোহী
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রুপ এ, বি এবং সি কর্মীদের ক্ষেত্রে বকেয়া টাকার একটি অংশ জিপিএফ-এ জমা রাখা হবে, যা নির্দিষ্ট সময়ের আগে তোলা যাবে না। অন্যদিকে গ্রুপ ডি কর্মী ও পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে সরাসরি অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হবে। এই বিভাজন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কর্মচারীরা। তাঁদের বক্তব্য, একই বকেয়া হলেও আলাদা আলাদা নিয়ম কেন প্রযোজ্য হবে, তা স্পষ্ট নয়।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ২০০৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বকেয়া ডিএ-র হিসাব নির্ধারণে সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত মনিটরিং কমিটির সুপারিশ মানার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু কর্মচারীদের একাংশের দাবি, এই সময়ের বকেয়া পুরোপুরি মেটানোর ব্যাপারে সরকারের অবস্থান এখনও অস্পষ্ট। ফলে এই অংশের টাকা আদৌ কবে এবং কীভাবে মিলবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে।
সংগঠনগুলির অভিযোগ, সরকার যে প্রস্তাব দিয়েছে, তা আসলে আংশিক সমাধান মাত্র। তাঁদের মতে, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পুরো বকেয়া মেটানো উচিত, কিন্তু বাস্তবে তা করা হচ্ছে না। বিশেষ করে, টাকা জিপিএফ-এ আটকে রাখার সিদ্ধান্তকে অনেকেই “পরোক্ষভাবে বকেয়া না দেওয়া” বলে অভিহিত করছেন।
এই পরিস্থিতিতে আবারও আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছেন কর্মচারী সংগঠনগুলি। তাঁদের দাবি, যদি দ্রুত এবং সম্পূর্ণভাবে বকেয়া ডিএ পরিশোধ না করা হয়, তবে তাঁরা ফের আদালতের দ্বারস্থ হবেন। ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে শীর্ষ আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, সরকারের তরফে বলা হয়েছে, আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ধাপে ধাপে বকেয়া মেটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রশাসনের যুক্তি, একসঙ্গে পুরো টাকা দেওয়া সম্ভব নয় বলেই কিস্তিতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই ব্যাখ্যা কর্মচারীদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে পারেনি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে স্পষ্ট, ডিএ বকেয়া ইস্যুতে সরকার ও কর্মচারীদের মধ্যে টানাপোড়েন এখনও অব্যাহত। এই দ্বন্দ্ব আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে, বিশেষ করে যদি আইনি লড়াই নতুন করে শুরু হয়। ফলে বিষয়টি যে শুধুমাত্র আর্থিক নয়, বরং রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, তা বলাই যায়।



















