দুপুর সাড়ে এগারোটায় সফল এয়ারস্ট্রাইক পাকিস্তানে দাবি তালিবান সরকারের

কাবুল: আফগানিস্তানে তালিবান সরকারের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (Taliban airstrike) আজ একটি চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে যে, তাদের বিমানবাহিনী দুপুর সাড়ে এগারোটা নাগাদ পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সমন্বিত বিমান…

taliban-airstrike-claim-in-pakistan-military-targets

কাবুল: আফগানিস্তানে তালিবান সরকারের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (Taliban airstrike) আজ একটি চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে যে, তাদের বিমানবাহিনী দুপুর সাড়ে এগারোটা নাগাদ পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সমন্বিত বিমান হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় লক্ষ্যবস্তু ছিল ইসলামাবাদের কাছে ফয়জাবাদের নিকটবর্তী একটি সামরিক ক্যাম্প, নওশেরার আর্মি ক্যান্টনমেন্ট, জামরুদের মিলিটারি কলোনি এবং অ্যাবোটাবাদের একটি সামরিক এলাকা।

তালিবান সরকারের মতে, এই হামলা পাকিস্তানের রাতের আগ্রাসনের প্রত্যুত্তর এবং সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।এই দাবি আসার কয়েক ঘণ্টা আগে পাকিস্তানের বিমানবাহিনী আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল, কান্দাহার এবং পাক্তিয়া প্রদেশে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ‘ওপেন ওয়ার’ ঘোষণা করে বলেছেন। তিনি বলেছেন তালিবানদের অযৌক্তিক আক্রমণের পর ধৈর্যের সীমা অতিক্রম হয়েছে এবং এখন পূর্ণ যুদ্ধের পরিস্থিতি।

   

আরও দেখুন: ঐতিহাসিক মুহূর্ত! অ্যাটাক হেলিকপ্টারের কো পাইলট রাষ্ট্রপতি

পাকিস্তান দাবি করেছে যে, তাদের হামলায় কাবুলসহ অন্যান্য এলাকায় তালেবানের সামরিক সদর দফতর, অস্ত্রাগার এবং ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেছেন, এই অভিযানে ১৩৩ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত এবং ২০০-এর বেশি আহত হয়েছে।তালেবানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আজ সকালে তাদের বিমানবাহিনী পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোতে নির্ভুল হামলা চালিয়েছে।

ফয়জাবাদের কাছে ইসলামাবাদের নিকটবর্তী সামরিক ক্যাম্পটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের খুব কাছে অবস্থিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা পাকিস্তানের জন্য একটি বড় নিরাপত্তা হুমকি। নওশেরা, জামরুদ (খাইবার পাসের কাছে) এবং অ্যাবোটাবাদ এই সব জায়গাই পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। তালেবান দাবি করেছে যে, এই হামলা পাকিস্তানের রাতের আক্রমণের সরাসরি প্রতিক্রিয়া, যাতে কাবুল, কান্দাহার ও পাক্তিয়ায় তাদের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।দু’দেশের মধ্যে এই উত্তেজনা গত কয়েক মাস ধরে চলছে।

ডুরান্ড লাইন বরাবর সীমান্তে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) সদস্যদের আস্তানা লক্ষ্য করে পাকিস্তান একাধিকবার বিমান হামলা চালিয়েছে। তালেবান অভিযোগ করে যে, এসব হামলায় বেসামরিক লোকজনও নিহত হয়েছে। গত কয়েকদিনে সীমান্তে তালেবানের বড় অভিযানে পাকিস্তানি পোস্ট দখল, সেনা নিহত ও বন্দী করার দাবি উঠেছে।

পাকিস্তান তখন ‘অপারেশন ঘজব লিল হক’ নামে প্রত্যুত্তর শুরু করে।এই নতুন দাবির পর পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি, তবে সামরিক সূত্রগুলো বলছে যে, এসব দাবি ‘প্রোপাগান্ডা’ এবং কোনো হামলা হয়নি বা হলে তা ব্যর্থ হয়েছে। পাকিস্তানের বিমানবাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনা দু’দেশের মধ্যে পূর্ণ যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করেছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় বেসামরিক লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বাণিজ্য বন্ধ, যোগাযোগ বিঘ্নিত এবং হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে রাশিয়া, মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। কিন্তু উভয় পক্ষের কঠোর অবস্থানের কারণে শান্তির সম্ভাবনা কম।