৬০৮ দিনের মহাকাশ সফর, ২৭ বছরের রূপকথায় ইতি! অবসর নিলেন সুনিতা উইলিয়ামস

কলকাতা: মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি সোনালি অধ্যায়ের অবসান ঘটল। দীর্ঘ ২৭ বছর নাসার (NASA) সঙ্গে যুক্ত থাকার পর অবসর নিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত কিংবদন্তি মহাকাশচারী সুনিতা উইলিয়ামস। নাসার পক্ষ ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us

কলকাতা: মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি সোনালি অধ্যায়ের অবসান ঘটল। দীর্ঘ ২৭ বছর নাসার (NASA) সঙ্গে যুক্ত থাকার পর অবসর নিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত কিংবদন্তি মহাকাশচারী সুনিতা উইলিয়ামস। নাসার পক্ষ থেকে মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা করা হয়েছে। গত ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ থেকে তাঁর এই অবসর কার্যকর হয়েছে।

সুনিতার শেষ মহাকাশ অভিযানটি ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর। মাত্র ১০ দিনের জন্য আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (ISS) গেলেও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তা ৯.৫ মাসের দীর্ঘ সফরে পরিণত হয়েছিল। অবশেষে গত মার্চ মাসে তিনি পৃথিবীতে ফিরে আসেন।

   

মহাকাশে ৬০৮ দিন: এক অনন্য রেকর্ড

১৯৯৮ সালে নাসা-র মহাকাশচারী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন সুনিতা। ২৭ বছরের কর্মজীবনে তিনি মোট তিনবার মহাকাশে পাড়ি দিয়েছেন এবং সেখানে মোট ৬০৮ দিন সময় কাটিয়েছেন। নাসার মহাকাশচারীদের মধ্যে মহাকাশে সবচেয়ে বেশি সময় কাটানোর তালিকায় তিনি বর্তমানে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন।

সুনিতার মুকুটে রয়েছে আরও অনেক পালক: Sunita Williams retirement

স্পেসওয়াক: মোট ৯ বার স্পেসওয়াক করেছেন তিনি, যার মোট সময় ৬২ ঘণ্টা ৬ মিনিট। মহিলা মহাকাশচারী হিসেবে এটি বিশ্বরেকর্ড।

ম্যারাথন: তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি মহাকাশে ম্যারাথন দৌড়েছিলেন।

দীর্ঘতম একক সফর: নাসার বুচ উইলমোরের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি এক দফায় ২৮৬ দিন মহাকাশে কাটানোর নজির গড়েছেন।

নাসা প্রশাসকের শ্রদ্ধাঞ্জলি

নাসা প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান বলেন, “সুনিতা উইলিয়ামস মানব মহাকাশ গবেষণার একজন পথিকৃৎ। তাঁর নেতৃত্ব এবং অসাধারণ সাফল্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বড় স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করবে। আর্টেমিস মিশন থেকে শুরু করে মঙ্গল অভিযানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।”

তিনটি মহাকাশ অভিযান ও ভারতের টান

৬০ বছর বয়সী সুনিতার প্রথম মহাকাশ যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৬ সালে ‘ডিসকভারি’ মহাকাশযানে। ২০১২ সালে দ্বিতীয়বার কাজাখস্তান থেকে মহাকাশে পাড়ি দেন তিনি। আর ২০২৪ সালের জুন মাসে তাঁর তৃতীয় তথা দীর্ঘতম অভিযানটি ছিল বোয়িং স্টারলাইনার মহাকাশযানে।

সুনিতা উইলিয়ামসের শিকড় জড়িয়ে রয়েছে ভারতে। তাঁর বাবা দীপক পাণ্ড্য ছিলেন গুজরাটের মেহসানা জেলার ঝুলাসন গ্রামের বাসিন্দা। পরবর্তীকালে তিনি আমেরিকায় পাড়ি দেন। মহাকাশকে নিজের “সবচেয়ে প্রিয় জায়গা” হিসেবে উল্লেখ করে সুনিতা বলেন, “নাসায় আমার এই ২৭ বছরের সফর অত্যন্ত সম্মানজনক। আমি আনন্দিত যে আমরা চাঁদ ও মঙ্গলে পৌঁছানোর পথ কিছুটা সহজ করে দিয়ে যেতে পেরেছি।”

অবসর জীবনের দিনগুলো সুনিতা তাঁর স্বামী মাইকেল এবং তাঁদের প্রিয় পোষ্যদের সঙ্গে কাটাতে চান। পাশাপাশি হাইকিং, ক্যাম্পিং এবং পুরনো গাড়ি ও বিমান মেরামতির মতো শখগুলো পূরণে সময় দেবেন বলে জানিয়েছেন এই নক্ষত্র-কন্যা।

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।