ইরানকে আটকাতে ভূমধ্যসাগরে যুদ্ধজাহাজ পাঠাল স্পেন-ইতালি

ইতালি এবং স্পেন তাদের যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে ফরাসি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপকে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে সঙ্গ দেওয়ার জন্য (European Warships)। এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত প্রতিরক্ষা ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
spain-italy-warships-mediterranean-support-france-charles-de-gaulle-iran-tensions

ইতালি এবং স্পেন তাদের যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে ফরাসি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপকে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে সঙ্গ দেওয়ার জন্য (European Warships)। এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফ্রান্সের নিউক্লিয়ার-চালিত বিমানবাহী জাহাজ শার্ল দ্য গল (Charles de Gaulle)-এর নেতৃত্বে এই গ্রুপটি এখন সাইপ্রাসের কাছে মোতায়েন, যাতে ইরানের হামলা থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য সাইপ্রাসকে রক্ষা করা যায় এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

সম্প্রতি ইরানের ড্রোন হামলায় সাইপ্রাসের RAF আক্রোতিরি ব্রিটিশ ঘাঁটিতে আঘাত হানার পর ইউরোপীয় দেশগুলো দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গত সপ্তাহে ঘোষণা করেন যে শার্ল দ্য গল ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপকে উত্তর ইউরোপের অনুশীলন থেকে সরিয়ে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে পাঠানো হচ্ছে। এই গ্রুপে ফরাসি ফ্রিগেট, সাবমেরিন এবং অন্যান্য সহায়ক জাহাজ রয়েছে। এখন ইতালি এবং স্পেনের যুদ্ধজাহাজ যোগ দিয়েছে এতে।

   

আরও দেখুনঃ ফের ইরানি হামলা দুবাই বিমানবন্দরে! আহত ভারতীয় নাগরিক

স্পেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে তাদের সবচেয়ে উন্নত ফ্রিগেট ক্রিস্টোবাল কোলন (Cristóbal Colón, F-105) ইতিমধ্যে শার্ল দ্য গল গ্রুপের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। এই ফ্রিগেটটি বাল্টিক সাগরে ফরাসি ক্যারিয়ারের সঙ্গে অনুশীলন করছিল, এবং এখন ক্রিট দ্বীপের কাছে পৌঁছানোর পথে। স্পেনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এর মিশন হলো আকাশ প্রতিরক্ষা, সুরক্ষা প্রদান এবং প্রয়োজনে নাগরিক উদ্ধারে সাহায্য করা।

এটি তুরস্কে মোতায়েন প্যাট্রিয়ট ব্যাটারির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।ইটালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী গুইডো ক্রোসেটো পার্লামেন্টে জানিয়েছেন যে ইতালি , স্পেন, ফ্রান্স এবং নেদারল্যান্ডস মিলে সাইপ্রাস রক্ষায় নৌবাহিনী পাঠাচ্ছে। ইটালির গাইডেড মিসাইল ফ্রিগেট ফেদেরিকো মার্টিনেঙ্গো (Federico Martinengo) এয়ার ডিফেন্সের জন্য মোতায়েন হচ্ছে। এছাড়া নেদারল্যান্ডসের ফ্রিগেট এভার্টসেন (HNLMS Evertsen) এবং গ্রিসের জাহাজগুলোও এই গ্রুপে যুক্ত।

ফ্রান্স, ইতালি এবং গ্রিসের নেতারা সমন্বয় করে সামরিক সম্পদ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যাতে লোহিত সাগরে নৌপথের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা যায়।এই মোতায়েনের পিছনে মূল কারণ ইরান-ইসরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের বিস্তার। ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলা সাইপ্রাসের মতো ইউরোপীয় অঞ্চলে পৌঁছে গেছে। সাইপ্রাস ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য এবং ইসরায়েলের খুব কাছে (প্রায় ২৪০ কিমি দূরে)। এখানে হামলা হলে ইউরোপের নিরাপত্তা সরাসরি হুমকির মুখে পড়ে।

ব্রিটেনও HMS Dragon ডেস্ট্রয়ার এবং অ্যান্টি-ড্রোন হেলিকপ্টার পাঠিয়েছে।এই যৌথ নৌবাহিনী শুধু প্রতিরক্ষামূলক আক্রমণাত্মক নয়। এর লক্ষ্য হলো আকাশ প্রতিরক্ষা, নাগরিক উদ্ধার এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ যদি আরও ছড়ায়, তাহলে হরমুজ প্রণালী বা লোহিত সাগরে এসকর্ট মিশনও হতে পারে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ বলেছেন, এটি একটি প্রতিরক্ষামূলক মিশন, যাতে ইউরোপীয় এবং অ-ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.