‘যুদ্ধ ছাড়া কিছু বোঝে না আমেরিকা!’ শান্তি আলোচনার মাঝেই বেসুরো বন্ধু সৌদি

পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনাপূর্ণ আকাশে সৌদি আরবের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার তীব্র ক্ষোভ। (Saudi criticism)আমেরিকার বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ রিফাইনারিতে হামলার সময় সাহায্য চাইলে আমেরিকা চুপ করে ছিল।…

saudi-criticism-us-iran-peace-talks-conflict-claims

পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনাপূর্ণ আকাশে সৌদি আরবের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার তীব্র ক্ষোভ। (Saudi criticism)আমেরিকার বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ রিফাইনারিতে হামলার সময় সাহায্য চাইলে আমেরিকা চুপ করে ছিল। আর এখন যখন ইরানের সঙ্গে শান্তি ও উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চলছে, তখন আমেরিকা সেই প্রচেষ্টাকে বাধা দিচ্ছে। কর্মকর্তা বলেছেন, “তারা যুদ্ধ চায়। আমেরিকা একটা যুদ্ধ সাম্রাজ্য, যা সংঘাত ছাড়া বাঁচতে পারে না।”

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের ড্রোন ও মিসাইল হামলায় সৌদি আরবের একাধিক তেল রিফাইনারি ও পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাস তানুরা, ইয়ানবু, জুবাইলের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত এসেছে। উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে লক্ষ লক্ষ ব্যারেল। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই হামলায় দেশের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লেগেছে। বিশ্ববাজারেও তেলের দামে ওঠানামা দেখা গিয়েছে।এই সংকটের মুহূর্তে সৌদি আরব আমেরিকার কাছে সাহায্য চেয়েছিল।

   

কিন্তু ওয়াশিংটন নীরব ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। সৌদি কর্মকর্তা খোলাখুলি বলেছেন, “যখন আমাদের রিফাইনারিতে হামলা হয়, আমরা আমেরিকার কাছে সাহায্য চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা চুপ করে থেকেছে।” এই নীরবতা সৌদি-মার্কিন সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরব আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। তেলের বাণিজ্য, অস্ত্র চুক্তি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা সবকিছুতে দুই দেশের সহযোগিতা ছিল। কিন্তু এখন সেই সম্পর্কে ফাটল ধরেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও গুরুতর অভিযোগ হল ইরানের সঙ্গে শান্তি প্রচেষ্টায় আমেরিকা বাধা দিচ্ছে। সৌদি আরব এখন ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা কমিয়ে আনতে চায়। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কথাবার্তা চলছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সেই প্রক্রিয়াকে নাশকতা করছে বলে সৌদি কর্মকর্তা দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “এখন যখন আমরা ইরানের সঙ্গে শান্তি ও ডি-এসকেলেশনের পথে এগোচ্ছি, তখন আমেরিকা সেই চেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে। তারা যুদ্ধ চায়।” এই বক্তব্যে সৌদি কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ওয়ার এম্পায়ার’ বলে অভিহিত করেছেন।

তাঁর মতে, আমেরিকা সংঘাত ছাড়া টিকে থাকতে পারে না। তার অর্থনীতি, সামরিক শিল্প সবকিছু যুদ্ধের ওপর নির্ভরশীল। এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, সৌদি আরব এখন নিজেদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে স্বাধীনভাবে চলতে চাইছে। চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানো, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা এসব পদক্ষেপ তারই ইঙ্গিত।

পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। ইরানের সঙ্গে আমেরিকা -ইসরায়েলের উত্তেজনা চরমে। সৌদি আরবসহ গাল্ফ দেশগুলো এই যুদ্ধের আঁচ অনুভব করছে। তেলের স্থাপনায় হামলা শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেও হুমকির মুখে ফেলেছে। সাধারণ মানুষ চাইছে শান্তি। কিন্তু বড় শক্তিগুলোর খেলায় ছোট দেশগুলো আটকে পড়ছে।