‘কোনও অনুমতি নেব না!’ বাংলায় বসে ইরানকে মোদী হুঙ্কার

india-warning-iran-strait-of-hormuz-indian-ships

নয়াদিল্লি: পারস্য উপসাগরের সবচেয়ে সংবেদনশীল জলপথ হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (India warning Iran) নৌবাহিনীর গানবোট দুটি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজের ওপর গুলি চালানোর ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার পর ভারত সরকার ইরানকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে এবং স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জলপথ কোনো ধরনের টোল বা বাধ্যতামূলক অনুমতির দাবি ভারত মানবে না।

একই সঙ্গে ভারতীয় নৌবাহিনী একাধিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে ভারতগামী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নিয়েছে।শনিবার (১৮ এপ্রিল) হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার চেষ্টা করার সময় সানমার হেরাল্ড এবং জাগ অর্ণব নামে দুটি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ আইআরজিসি-র গানবোটের মুখোমুখি হয়। জাহাজগুলো ইরাকি অপরিশোধিত তেল বহন করছিল। আইআরজিসি-র গানবোটগুলো জাহাজ দুটিকে থামিয়ে দেয় এবং গুলি চালায়।

   

india-warning-iran-strait-of-hormuz-indian-ships

আরও দেখুনঃ ১৬৪টির মধ্যে ১৫০টিই “মুসলিম ল্যান্ড মাফিয়া”র! বিস্ফোরক বিজেপি

কোনো নাবিক আহত হয়নি বলে জানা গেলেও, একটি জাহাজের জানালার কাচ ভেঙে যায়। আতঙ্কিত নাবিকদের রেডিও বার্তায় শোনা যায়, “আপনারা আমাদের ক্লিয়ারেন্স দিয়েছিলেন, এখন গুলি চালাচ্ছেন!” শেষ পর্যন্ত দুটি জাহাজকেই ফিরে যেতে হয়।ঘটনার পর ভারতের বিদেশ মন্ত্রক তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়। বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি ইরানের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ফাতালিকে তলব করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের আন্তর্জাতিক জলপথ এবং এখানে কোনো দেশ একতরফাভাবে টোল বা অনুমতির দাবি করতে পারে না। বিদেশমন্ত্রক মন্তব্য করেছে “ভারতীয় জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ইরানকে এই ধরনের ঘটনা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।”ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য স্ট্রেইট অব হরমুজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের আমদানিকৃত তেলের বড় অংশ এই পথ দিয়েই আসে।

ঘটনার পর ভারত সরকার ২২টি এনার্জি কার্গো জাহাজ চিহ্নিত করে তাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য ইরানি কর্তৃপক্ষ ও ভারতীয় নৌবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় শুরু করেছে। ভারতীয় নৌবাহিনী ইতিমধ্যে একাধিক যুদ্ধজাহাজ স্ট্রেইট অব হরমুজের কাছে মোতায়েন করেছে যাতে ভারতগামী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো নিরাপদে চলাচল করতে পারে।এই ঘটনা ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াইকেও সামনে এনেছে।

কয়েক ঘণ্টা আগে ইরানের বিদেশমন্ত্রী হরমুজ খোলা রাখার কথা বললেও আইআরজিসি তার উল্টো অবস্থান নিয়ে গুলি চালায়। বিশ্লেষকরা বলছেন, এতে ইরানের মধ্যে সামরিক ও বেসামরিক কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিভেদ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।ভারত সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটে। একই সঙ্গে নৌবাহিনীর প্রস্তুতি দেখিয়ে দিচ্ছে যে, ভারত তার বাণিজ্যিক স্বার্থ ও নাবিকদের নিরাপত্তা কোনোভাবেই আপস করবে না।