ইরানের দেশনায়কের মৃত্যুতে কি চিঠি লিখলেন পুতিন ?

মধ্যপ্রাচ্যের বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে (Putin)আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
putin-condemns-khamenei-killing-russia-iran-reaction

মধ্যপ্রাচ্যের বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে (Putin)আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি খামেনেইর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যাকে “নিন্দনীয়” আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এই ঘটনা মানবিক নৈতিকতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

ক্রেমলিন থেকে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের উদ্দেশে গভীর সমবেদনা জানান। ওই বার্তায় তিনি বলেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা সাইয়্যেদ আলী খামেনেই এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডে আমি গভীর শোকাহত। এটি এমন একটি ঘটনা যা আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতিগুলিকে উপেক্ষা করেছে এবং মানবিক নৈতিকতারও বিরোধী।

   

আরও দেখুন: ওমানে ইরানি হামলায় নিহত ১৫ ভারতীয়

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট তাঁর বার্তায় আরও উল্লেখ করেন, খামেনেইকে রাশিয়ায় একজন অসাধারণ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে স্মরণ করা হবে। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে এবং রাশিয়া-ইরান সহযোগিতাকে একটি বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিতে উন্নীত করতে তাঁর ব্যক্তিগত ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুতিনের মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খামেনি এমন এক নেতা ছিলেন যিনি আঞ্চলিক রাজনীতি এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রেখেছেন।

পুতিন তাঁর শোকবার্তায় প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানকে অনুরোধ করেন, খামেনির পরিবার, তাঁর স্বজন, ইরানের সরকার এবং সাধারণ জনগণের কাছে রাশিয়ার সমবেদনা পৌঁছে দিতে। তিনি বলেন, এই কঠিন সময়ে রাশিয়া ইরানের জনগণের পাশে রয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই নিহত হন। তেহরানসহ ইরানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ওই দিন বিমান হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে। এই হামলায় ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করা হয়েছিল বলেও দাবি করেছে বিভিন্ন সূত্র।

তবে শুধু রাজনৈতিক নেতাই নন, এই হামলার জেরে বেসামরিক হতাহতের ঘটনাও সামনে এসেছে। ইরানের দাবি, দুটি স্কুলে হামলার ঘটনায় শতাধিক ছাত্রী নিহত হয়েছেন। যদিও এই দাবি আন্তর্জাতিকভাবে এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবুও ঘটনাটি ঘিরে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। খামেনেইর মৃত্যুর খবর সামনে আসার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইরান এই হামলার জন্য আমেরিকা ও ইসরায়েলকে সরাসরি দায়ী করেছে এবং তার জবাবে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

ইতিমধ্যেই ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুকে নিশানা করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এতে গোটা অঞ্চলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে রাশিয়া, চীন এবং পশ্চিমা শক্তিগুলির মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

পুতিনের এই বিবৃতি সেই দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলিতে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামরিক সহযোগিতা অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে খামেনির মৃত্যুকে ঘিরে রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, এই সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় এবং বিশ্ব রাজনীতিতে তার কী প্রভাব পড়ে।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.