রচডেল গ্রুমিং গ্যাং মামলা: অপরাধীকে ফেরত নিতে অনীহা পাকিস্তান, পাল্টা প্রত্যর্পণের দাবি ইসলামাবাদের

রচডেল গ্রুমিং গ্যাং মামলার দোষী শবির আহমেদকে ফেরত পাঠাতে চাইছে যুক্তরাজ্য। পাল্টা রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীদের প্রত্যর্পণের দাবি তুলেছে পাকিস্তান।

pakistan-refuses-shabir-ahmed-deportation-seeks-political-extradition

ইংল্যান্ডের বহুল আলোচিত রচডেল গ্রুমিং গ্যাং মামলায় দোষী সাব্যস্ত শবির আহমেদকে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ সরকার তাঁকে পাকিস্তানে প্রত্যর্পণের পথ খুঁজছে। তবে ইসলামাবাদ জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তাদের নিজস্ব অবস্থান রয়েছে এবং তারা পাল্টা কিছু দাবি তুলেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান চাইছে, যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী কয়েকজন রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হোক। তবে এই দাবিতে সম্মত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করা হচ্ছে।

কে এই শবির আহমেদ?

৭৩ বছর বয়সি শবির আহমেদ পাকিস্তানের পাঞ্জাবে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৪ বছর বয়সে যুক্তরাজ্যে চলে যান।
২০১২ সালে তাঁকে ৩০টি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। অভিযোগগুলির মধ্যে ছিল ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীদের পাচার।
দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সময় তাঁর ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি, দুই দেশেরই নাগরিকত্ব ছিল।

কেন তাঁকে এখনও ফেরত পাঠানো যায়নি?

২০১৬ সালে যুক্তরাজ্য সরকার তাঁর ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল করে।
তবে ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট, ১৯৭১-এর একটি ধারার কারণে তাঁকে এখনও যুক্তরাজ্য থেকে বহিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। কারণ তিনি ১৯৭১ সালের আগেই যুক্তরাজ্যে বসবাস শুরু করেছিলেন।
ব্রিটিশ সরকার এখন আইন পরিবর্তনের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে, যাতে ভবিষ্যতে তাঁর মতো ব্যক্তিদের বহিষ্কার করা যায়।

পাকিস্তানের অবস্থান কী?

পাকিস্তানের এক সরকারি কর্মকর্তা ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, বর্তমান পাকিস্তান আগের মতো নয় এবং যুক্তরাজ্যের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।
অন্য একটি সূত্রের দাবি, শবির আহমেদ প্রায় ৬০ বছর ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। তাই তাঁর অপরাধ এবং বিচার যুক্তরাজ্যের বিষয় বলেই পাকিস্তান মনে করছে।
সূত্রটির বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি শুধু পাকিস্তানে জন্মেছিলেন, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাজ্যের সমাজের অংশ ছিলেন। তাই তাঁকে পাকিস্তানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না।

পাকিস্তানের পাল্টা দাবি

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান যুক্তরাজ্যের কাছে কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও ভিন্নমতাবলম্বীর প্রত্যর্পণ চেয়েছে।
এই তালিকায় রয়েছেন:
• পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সরকারের সাবেক মন্ত্রী শাহজাদ আকবর
• প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তা ও ইউটিউবার আদিল রাজা
• লন্ডনে অবস্থানকারী মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট (MQM)-এর প্রতিষ্ঠাতা আলতাফ হুসেন
পাকিস্তানের অভিযোগ, যুক্তরাজ্যের মাটি ব্যবহার করে এই ব্যক্তিরা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কার্যকলাপ চালাচ্ছেন।

অচলাবস্থার আশঙ্কা

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্য এই রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পাকিস্তানের হাতে তুলে দেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
ফলে শবির আহমেদকে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানোর বিষয়টিও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে পারে।

এদিকে ব্রিটেনে বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার দাবি তুলেছে। তাদের একাংশের মত, প্রয়োজনে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা বা বিদেশি সহায়তা কমানোর মতো পদক্ষেপ বিবেচনা করা যেতে পারে।
তবে এই মুহূর্তে দুই দেশের সরকারই বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তানের দাবিগুলি বা যুক্তরাজ্যের সম্ভাব্য পদক্ষেপ সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।