ইসলামাবাদ: ভারতে বেড়েছে গ্যাসের দাম। সেই সঙ্গে যুদ্ধের আগুনে জ্বলছে প্রতিবেশী পাকিস্তান (Pakistan petrol price)। পাকিস্তানে জ্বালানি তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছে। এক লাফে পেট্রোলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২১.১৭ পাকিস্তানি রুপি প্রতি লিটারে, আর ডিজেল ৩৩৫.৮৬ রুপিতে। মাত্র একদিনে ৫৫ রুপি প্রতি লিটার বাড়ানো হয়েছে এটা সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় দাম বৃদ্ধি। এই খবরে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পেট্রোল পাম্পে কিলোমিটারের পর কিলোমিটার লম্বা লাইন পড়ে গেছে। অনেকে রাতভর অপেক্ষা করছেন জ্বালানি পাওয়ার জন্য। করাচি, লাহোর, ইসলামাবাদ সর্বত্র একই চিত্র।সবকিছুর পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ছায়া। আমেরিকা ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা, খামেনির মৃত্যু, ইরানের প্রতিশোধমূলক আক্রমণ এসবের ফলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গেছে।
আরও দেখুনঃ আজ থেকেই অ্যাকাউন্টে ঢুকবে ১৫০০ টাকা! ‘যুব সাথী’ নিয়ে বিরাট ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই প্রণালী দিয়ে যায়। ইরান প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে মার্কিন, ইসরায়েলি ও পশ্চিমা জাহাজের জন্য। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম এক সপ্তাহে ৭৮ ডলার থেকে ১০৬ ডলারের ওপরে চলে গেছে। ডিজেলের দাম আরও বেশি বেড়েছে। পাকিস্তানের মতো তেল আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এটা মারাত্মক আঘাত।পাকিস্তান তার প্রয়োজনীয় তেলের প্রায় ৮০-৯০ শতাংশ আমদানি করে।
এর মধ্যে বড় অংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। এলএনজি-র ক্ষেত্রে প্রায় ৯৯ শতাংশ কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসে, যা একই রুটে নির্ভরশীল। প্রণালী বন্ধ হওয়ায় সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। দেশে পেট্রোল-ডিজেলের মজুত মাত্র ২৮ দিনের, অশোধিত তেলের ১০ দিনের এবং এলপিজি-র ১৫ দিনের। সরকার বলছে, এখনই সংকট নেই, কিন্তু পরিস্থিতি খারাপ হলে বড় সমস্যা হবে।সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে।
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক টেলিভিশনে বলেছেন, “আন্তর্জাতিক তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমাদের বাধ্য হয়ে দাম বাড়াতে হয়েছে।” আইএমএফ-এর চাপও ছিল দাম সমন্বয়ের। ডেপুটি প্রাইম মিনিস্টার ইশাক দার বলেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সৌদি আরবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে রেড সি রুট দিয়ে তেল আনার জন্য। ইয়ানবু বন্দর থেকে বিকল্প সরবরাহের চেষ্টা চলছে। কিন্তু এতে খরচ আরও বাড়বে, ফ্রেইট চার্জ ও ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম বেড়ে যাবে।
সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব ভয়াবহ। ট্রান্সপোর্ট খরচ বেড়ে যাওয়ায় খাদ্যদ্রব্য, ওষুধ, সবকিছুর দাম বাড়বে। ইতিমধ্যে ইনফ্লেশন চরমে। অনেকে বলছেন, “ঈদের আগে এই ‘পেট্রোল বোমা’ সহ্য করা কঠিন।” পেট্রোল পাম্পে হুড়োহুড়ি, কেউ কেউ হয়তো হয়রান হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য কোভিডকালীন ব্যবস্থা ভাবছে অফিসে ওয়ার্ক ফ্রম হোম বাধ্যতামূলক, অনলাইন ক্লাস, জ্বালানি রেশনিং।
কিন্তু এসব কি যথেষ্ট হবে?এই সংকট দেখিয়ে দিচ্ছে পাকিস্তানের অর্থনীতি কতটা ভঙ্গুর। তেল আমদানিতে বিদেশি মুদ্রা ব্যয় বেড়ে যাবে, রিজার্ভ আরও কমবে। রফতানি কমতে পারে ১০-২০ শতাংশ। শিল্পোৎপাদন ব্যাহত হবে। সরকার বলছে, স্টক যথেষ্ট আছে, কিন্তু বাস্তবে পাম্পে লাইন দেখে মনে হয় সংকট শুরু হয়ে গেছে।



















