নয়াদিল্লি: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে (Pakistan oil crisis)। বিশেষ করে আমেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত ঘিরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের উর্ধ্বগতি নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করেছে অনেক দেশের উপর। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে পাকিস্তান। তেলের দামের লাগামছাড়া বৃদ্ধির জেরে এবার কঠোর সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে ইসলামাবাদ।
পাকিস্তান সরকার ঘোষণা করেছে, দেশের স্কুল দু’সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখা হবে। জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। পাশাপাশি সরকারি কর্মীদের কাজের ধরনেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, অন্তত ৫০ শতাংশ সরকারি কর্মীকে বাড়ি থেকে কাজ বা ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
আরও দেখুনঃ ইরান যুদ্ধ: গ্যাস-পেট্রোলের জোগানে জারি ‘অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন’
সরকারি দপ্তরগুলির ক্ষেত্রেও বেশ কিছু বড় কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী, সরকারি বিভাগের জ্বালানি খরচ কমাতে প্রায় ৬০ শতাংশ সরকারি গাড়ি আগামী দুই মাস রাস্তায় নামানো হবে না। তবে জরুরি পরিষেবা যেমন অ্যাম্বুল্যান্স ও বাস এই সিদ্ধান্তের বাইরে রাখা হয়েছে।
এতেই শেষ নয়। বিভিন্ন সরকারি দফতরের জ্বালানি ভাতা বা ফুয়েল অ্যালাউন্সও ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রশাসনিক ব্যয় কমানোর মাধ্যমে জ্বালানি ব্যবহারও কমানোর চেষ্টা করছে সরকার। একই সঙ্গে সরকারি দপ্তরের কাজের ধরণেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে অনেক সরকারি অফিস সপ্তাহে চার দিন খোলা থাকবে। এতে করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে বড়সড় সাশ্রয় হবে বলে মনে করছে সরকার।
এছাড়াও সরকারি বিভিন্ন বিভাগের অ-বেতনভিত্তিক খরচও ২০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ অফিস পরিচালনার নানা খাতে খরচ কমিয়ে আর্থিক চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়তে থাকায় পাকিস্তানের মতো আমদানি নির্ভর দেশের উপর তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে। পাকিস্তান ইতিমধ্যেই উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি এবং ঋণের চাপের মধ্যে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি আমদানির খরচ বেড়ে যাওয়ায় দেশের অর্থনীতি আরও চাপে পড়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যদি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে পাকিস্তানের মতো দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলির পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠবে। ফলে এখন থেকেই খরচ কমানো এবং জ্বালানি ব্যবহার সীমিত করার মতো পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে সরকার। সাধারণ মানুষের জীবনেও এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। স্কুল বন্ধ হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সাময়িক বিরতি তৈরি হয়েছে। আবার সরকারি কর্মীদের বড় অংশ বাড়ি থেকে কাজ করায় প্রশাসনিক কাজের গতিতেও কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে।



















