‘পরমাণু অস্ত্র বানাবে না ইরান!’ ট্রাম্পের ঘোষণায় তুঙ্গে ৩০০ বিলিয়নের জল্পনা

ওয়াশিংটন: টানা ১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে এবার স্থায়ী শান্তির পথে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ করল ওয়াশিংটন ও তেহরান। রবিবার মার্কিন…

ওয়াশিংটন: টানা ১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে এবার স্থায়ী শান্তির পথে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ করল ওয়াশিংটন ও তেহরান। রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করেছেন যে, ইরান ভবিষ্যতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার শর্তে রাজি। দুই দেশের মধ্যে শান্তি প্রক্রিয়ার যে প্রাথমিক রফা হয়েছে, তার প্রেক্ষাপটেই এই দাবি করেছেন তিনি।

ট্রাম্প ও ভ্যান্সের দাবি

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না বলে সম্মত হয়েছে! সেই সঙ্গে, আমেরিকাকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৩ কোটি ডলার (৩০০ মিলিয়ন) দিতে হচ্ছে বলে যে খবর ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভুয়ো।” ডেমোক্র্যাটরাই এই ধরনের মিথ্যে খবর রটাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। এই প্রাথমিক সমঝোতাকে বড়সড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরে তিনি জানান, প্রথম দিন থেকেই এই সংঘাতের ক্ষেত্রে আমেরিকার মূল লক্ষ্য ছিল তেহরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে আটকানো।

   

সতর্কবার্তা পেজেশকিয়ানের

জি-৭ (G7) সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্সে গিয়ে ট্রাম্প জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহের শেষদিকে জেনেভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তিতে আমেরিকার হয়ে স্বাক্ষর করবেন ভ্যান্স। অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই প্রাথমিক রফাকে সংঘাত থামানোর ক্ষেত্রে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ বলে বর্ণনা করেছেন ঠিকই, তবে একইসঙ্গে সতর্কবার্তাও দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য চূড়ান্ত চুক্তি এখনও আলোচনার স্তরেই রয়েছে এবং তার শর্তাবলি চূড়ান্ত হতে এখনও সময় লাগবে।

কী এই ৩০০ বিলিয়ন ডলারের জল্পনা?

ট্রাম্প তাঁর পোস্টে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের কথা অস্বীকার করলেও, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে যে অঙ্কটি নিয়ে তুমুল চর্চা চলছে, তা হলো ৩০০ বিলিয়ন বা ৩০ হাজার কোটি ডলার। ইরানের মেহর সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, শান্তি প্রক্রিয়ার অঙ্গ হিসেবে আমেরিকা ও তার মিত্র দেশগুলির কাছে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন প্যাকেজ দাবি করেছে তেহরান।
ইরানের সংবাদমাধ্যমের দাবি, এই শর্তের মধ্যে আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্কে আটকে থাকা ২৪ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ ফেরানোর কথা বলা হয়েছে, যার অর্ধেক চুক্তি চলাকালীনই দিতে হবে। পাশাপাশি, তেল রফতানির ওপর থেকে সমস্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। যদিও পশ্চিমি সংবাদমাধ্যমগুলির মতে, এই বিপুল অঙ্কের অর্থ কোনও সরাসরি সরকারি ক্ষতিপূরণ নয়, বরং এটি একটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও পুনর্গঠন কর্মসূচি, যেখানে ওয়াশিংটন কেবল মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করবে।

খসড়া চুক্তির রূপরেখা

আর্থিক প্যাকেজ নিয়ে তুমুল জল্পনার মধ্যেই পারমাণবিক কাঠামোর বিস্তারিত তথ্য এখনও খুব সীমিত। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের কথায়, আপাতত এই মেমোরেন্ডাম অফ আন্ডারস্ট্যান্ডিং (MoU) মাত্র দেড় পাতার একটি অত্যন্ত সাধারণ দলিল। তবে এর মধ্যে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তোলার বিষয়ে উল্লেখযোগ্য রূপরেখা রয়েছে। ভ্যান্স জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) পরিদর্শকরা খুব শিগগিরই ইরানে ফিরবেন এবং অত্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নষ্ট করার বিষয়েও রফা হয়েছে।

আমেরিকার সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, তেহরানকে চূড়ান্ত চুক্তির সম্পূর্ণ সুবিধা পেতে হলে বেশ কিছু কড়া মার্কিন শর্ত মানতে হবে। যার মধ্যে অন্যতম হলো পারমাণবিক অস্ত্র না বানানোর লিখিত প্রতিশ্রুতি দেওয়া এবং হিজবুল্লার মতো আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে মদত দেওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করা। এছাড়া অসামরিক প্রয়োজনে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যতে লাগাতার আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলা হয়েছে এই খসড়ায়।