
নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ার রণক্ষেত্রে কি এবার শান্তির দূত হয়ে উঠবে পাকিস্তান? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সাম্প্রতিক তৎপরতা ঘিরে বিশ্ব রাজনীতিতে এখন এই জল্পনাই তুঙ্গে। ট্রাম্পের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ, যেখানে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় দেখা যেতে পারে ইসলামাবাদকে।
শাহবাজের প্রস্তাব ও ট্রাম্পের সায়
পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সম্প্রতি এক্স হ্যান্ডেলে ঘোষণা করেছেন, আমেরিকা ও ইরান যদি রাজি থাকে, তবে পাকিস্তান এই দুই দেশের মধ্যে ‘অর্থবহ এবং চূড়ান্ত’ আলোচনার আয়োজন করতে ‘প্রস্তুত ও সম্মানিত’ বোধ করবে। চমকপ্রদ বিষয় হলো, ট্রাম্প নিজেই শাহবাজের এই পোস্টটি শেয়ার করে আলোচনার জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছেন। মূলত ওয়াশিংটন ও তেহরান, উভয় পক্ষের সঙ্গেই পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকায় ইসলামাবাদকে একটি ‘নিউট্রাল প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পর্দার আড়ালে ‘ব্যাক-চ্যানেল’ কূটনীতি
চলতি যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহে এসে বিশ্বজুড়ে যে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, তা মেটাতেই এই কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ। সূত্রের খবর, শুধু পাকিস্তান নয়, মিশর ও তুরস্কও পর্দার আড়ালে দূতিয়ালি করছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যেকার বরফ গলাতে দুই ধরনের বৈঠকের পরিকল্পনা শোনা যাচ্ছে-
১. এক পক্ষে থাকতে পারেন মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং অন্য পক্ষে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
২. অন্য একটি ফরম্যাটে আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সরাসরি দেখা করতে পারেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবফের সঙ্গে৷
‘ফাঁদ’ বনাম ‘নীতি’: অনড় তেহরান
ট্রাম্প আলোচনার দাবি করলেও ইরান কিন্তু সুর নরম করছে না। গালিবফ স্পষ্ট জানিয়েছেন, আমেরিকা ও ইজরায়েল যে ‘চোরাবালিতে’ আটকে পড়েছে, তা থেকে বাঁচতেই এই আলোচনার নাটক করা হচ্ছে। ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্বীকার করেছেন যে ‘বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর’ মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান চলছে, তবে ইরান তার ‘নীতিগত অবস্থান’ থেকে সরবে না। ইরানের সিনিয়র সামরিক উপদেষ্টা মহসেন রেজাই আরও কড়া ভাষায় জানিয়েছেন, উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে মার্কিন হস্তক্ষেপ বন্ধের গ্যারান্টি না পাওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ থামবে না।
পাকিস্তানের দ্বিমুখী সংকট
মজার বিষয় হলো, ইরান যুদ্ধের মধ্যস্থতা করতে চাইলেও পাকিস্তান নিজেই এখন আফগানিস্তানের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত। গত ফেব্রুয়ারিতে কাবুলের ওপর পাকিস্তানের বিমান হামলার পর থেকে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক তলানিতে। আন্তর্জাতিক মহলের নজর যখন ইরান যুদ্ধের দিকে, তখন পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তও কিন্তু অশান্ত।
ট্রাম্পের ৫ দিনের ‘অঘোষিত যুদ্ধবিরতি’র দাবি ইরান উড়িয়ে দিলেও, তলে তলে যে আলোচনার সলতে পাকানো হচ্ছে তা স্পষ্ট। এখন দেখার, ইসলামাবাদের মাটিতে শেষ পর্যন্ত জ্যারেড কুশনার আর ইরানি প্রতিনিধিরা করমর্দন করেন কি না।

