করাচি: ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত নয়, এবার চরম উত্তেজনার পারদ চড়ল পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্তে। করাচিতে সেনা জওয়ানদের ওপর হওয়া এক প্রাণঘাতী জঙ্গি হামলার চরম বদলা নিতে আফগানিস্তানের মাটিতে বড়সড় সামরিক অভিযান চালাল পাকিস্তান। ইসলামাবাদ দাবি করেছে, আফগানিস্তানের ভেতরে ঢুকে অন্তত ২৯ জন জঙ্গিকে খতম করেছে তারা। অন্যদিকে, এই হামলার তীব্র নিন্দা করে আফগান তালিবান সরকার দাবি করেছে যে, পাকিস্তানের এই হামলায় বহু সাধারণ নাগরিক হতাহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সংঘাত এক চরম আকার ধারণ করেছে। (Pakistan Afghanistan Border Conflict)
করাচিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের এই প্রত্যাঘাতের নেপথ্যে রয়েছে শনিবার করাচিতে হওয়া এক রক্তক্ষয়ী জঙ্গি হামলা। শনিবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি সজোরে ধাক্কা মারে করাচিতে অবস্থিত পাকিস্তানের আধাসামরিক বাহিনী ‘সিন্ধ রেঞ্জার্স’-এর সদর দফতরে। তীব্র বিস্ফোরণের পরক্ষণেই বেশ কয়েকজন জঙ্গি হ্যান্ড গ্রেনেড ছুড়তে ছুড়তে ওই সেনা শিবিরের ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে।
এরপরই গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে পাকিস্তানের স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট (এসএসইউ) এবং অ্যান্টি-টেররিস্ট ফোর্স (এটিএফ)। শুরু হয় দু’পক্ষের মধ্যে তুমুল গুলির লড়াই। প্রায় ৯০ মিনিট ধরে চলা এই ভয়াবহ সংঘর্ষে ৪ জন পাকিস্তানি রেঞ্জার্স জওয়ানের মৃত্যু হয়। পাল্টা গুলিতে খতম হয় ৬ জন জঙ্গিও। এক আহত জঙ্গিকে আটক করা হয়, যে আদতে আফগান নাগরিক বলে জানা গিয়েছে। তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর একটি শাখা সংগঠন ‘জামাত-উল-আহরার’ এই হামলার দায় স্বীকার করে।
আফগানিস্তানে প্রত্যাঘাত, ২৯ জঙ্গি নিকেশের দাবি
করাচি হামলার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আফগানিস্তানের মাটিতে ঢুকে প্রত্যাঘাত হানে পাকিস্তানি সেনা। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, আফগানিস্তানের পাকতিয়া, পাকতিকা এবং কুনার প্রদেশে জঙ্গিদের তিনটি গোপন ডেরা ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। এই গ্রাউন্ড অপারেশন এবং ক্যালিব্রেটেড স্ট্রাইকের মাধ্যমে জামাত-উল-আহরার গোষ্ঠীর ২৯ জন জঙ্গিকে নিকেশ করেছে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী।
‘কাপুরুষোচিত হামলা’, সরব তালিবান সরকার
পাকিস্তানের এই সামরিক অভিযানের পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আফগানিস্তানের তালিবান সরকার। তালিবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের এই পদক্ষেপকে ‘কাপুরুষোচিত আগ্রাসন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, পূর্ব আফগানিস্তানে পাকিস্তানের এই হামলায় জঙ্গিদের বদলে কয়েক ডজন নিরীহ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে এবং অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছেন।
তুঙ্গে পাক-আফগান সংঘাত
গত কয়েক বছর ধরেই পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত সংঘাত লেগেই রয়েছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগান তালিবান সরকার টিটিপি এবং অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনগুলোকে নিজেদের মাটিতে আশ্রয় দিচ্ছে, যারা নিয়মিত পাকিস্তানে অনুপ্রবেশ করে হামলা চালাচ্ছে। যদিও কাবুল বারবারই এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। তিন সপ্তাহ আগেই আফগানিস্তানে এয়ার স্ট্রাইক চালিয়েছিল পাকিস্তান। এবার করাচি হামলার পর এই নতুন করে শুরু হওয়া সামরিক অভিযান দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের মেঘ আরও ঘন করল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।



