‘একদিনের অনশনে যোগ দিন’, দেশবাসীর কাছে আর্জি ওয়াংচুকের

নয়াদিল্লি: দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার, পরীক্ষায় দুর্নীতির প্রতিবাদ এবং লাদাখের অধিকারের দাবিতে এবার রাজধানী দিল্লির রাজপথে আমরণ অনশনে বসলেন প্রখ্যাত জলবায়ু ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। ককরোচ…

Sonam Wangchuk Hunger Strike

নয়াদিল্লি: দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার, পরীক্ষায় দুর্নীতির প্রতিবাদ এবং লাদাখের অধিকারের দাবিতে এবার রাজধানী দিল্লির রাজপথে আমরণ অনশনে বসলেন প্রখ্যাত জলবায়ু ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র সঙ্গে হাত মিলিয়ে রবিবার থেকে যন্তর মন্তরে তাঁর এই অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু হয়েছে। সোমবার অনশনের দ্বিতীয় দিনে দেশবাসীর উদ্দেশে একটি বিশেষ বার্তা দিয়েছেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি তুলে ওয়াংচুক জানিয়েছেন, দেশের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে অবিলম্বে শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। (Sonam Wangchuk Hunger Strike)

দেশবাসীর প্রতি ওয়াংচুকের আবেগঘন বার্তা

সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপকের শেয়ার করা একটি ভিডিও বার্তায় সোনম ওয়াংচুক দেশবাসীকে এই আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শিক্ষা, পরিবেশ, সিজেপি এবং লাদাখের সমর্থনে আজ আমার শুধুমাত্র নুন-জল খেয়ে অনশনের দ্বিতীয় দিন। এখানে অনেকেই আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। আপনারাও চাইলে আসতে পারেন। অন্তত একদিনের জন্য এই অনশনে যোগ দিলে তা অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা দেবে। তিনি আরও বলেন, যাঁরা দিল্লিতে আসতে পারবেন না, তাঁরা নিজেদের রাজ্য, শহর বা গ্রামে অন্তত একদিনের জন্য অনশন করতে পারেন। শিক্ষা, পরিবেশ এবং সরকারের জবাবদিহির দাবিতে এই প্রতিবাদ অত্যন্ত জরুরি।

   

কেন এই আমরণ অনশন?

সম্প্রতি সর্বভারতীয় স্তরের বিভিন্ন পরীক্ষায় যে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তার প্রতিবাদেই এই আন্দোলনের সূত্রপাত। সিজেপি-র এই ধর্নামঞ্চ থেকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পাশাপাশি নির্বাচনী ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার দাবিও তোলা হয়েছে। অনশনে বসার আগে অভিজিৎ ডিপকের সঙ্গে রাজঘাটে গিয়ে মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন ওয়াংচুক। এরপর আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা ছাড়া কোনো দেশ এগোতে পারে না। ভারতকে ‘বিকশিত ভারত’ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে শিক্ষাব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে। কিন্তু সম্প্রতি যা ঘটছে, তাতে স্পষ্ট যে সরকার শিক্ষার স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছে। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগই এই সংস্কারের প্রথম ধাপ।

লাদাখের অধিকার ও সরকারের কাছে জোড়া দাবি

অনশনে বসার আগে ওয়াংচুক দুটি প্রধান দাবি তুলে ধরেছিলেন। প্রথমত, শিক্ষা ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি। দ্বিতীয়ত, লাদাখের সংস্কৃতি, পরিবেশ রক্ষা এবং সেখানে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য স্বায়ত্তশাসনের অধিকার। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, সরকার যদি অন্তত একটি বিষয়েও সদর্থক পদক্ষেপ না নেয়, তবে তিনি আমরণ অনশনে বসবেন। সরকার কোনো সাড়া না দেওয়ায় রবিবার থেকেই তিনি এই কঠিন পথে হেঁটেছেন।

জল ও শৌচাগার বন্ধের মারাত্মক অভিযোগ

এদিকে, সোনম ওয়াংচুকের এই আন্দোলন শুরু হতেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় অভিযোগ উঠেছে। সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপকে সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন, ওয়াংচুক অনশন ঘোষণা করার পরপরই যন্তর মন্তরে জল এবং শৌচাগারের সুবিধা বন্ধ করে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। তিনি লেখেন, ওয়াংচুকজির বয়স এবং শারীরিক অবস্থার কথা বারবার জানানো সত্ত্বেও পুলিশ কোনো সহযোগিতা করছে না। উল্টে প্রাথমিক পরিষেবাগুলোও কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। পুলিশের এই অমানবিক আচরণের পেছনে ঠিক কী উদ্দেশ্য রয়েছে, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে আগামী দিনে এই আন্দোলন আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।