৫০ দিন ধরে সোমালি জলদস্যূদের কবলে তেলবাহী ট্যাংকার! উদ্ধারে ব্যর্থ পাক সেনা

সোমালিয়ার পুন্টল্যান্ড উপকূলে জলদস্যুদের কবলে পড়া তেলবাহী ট্যাঙ্কার MT Honour 25-কে ঘিরে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। জাহাজে আটক পাকিস্তানি ও অন্যান্য দেশের ক্রু সদস্যদের একটি ভিডিও…

mt-honour-25-somali-pirates-hostage-crisis-pakistani-crew

সোমালিয়ার পুন্টল্যান্ড উপকূলে জলদস্যুদের কবলে পড়া তেলবাহী ট্যাঙ্কার MT Honour 25-কে ঘিরে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। জাহাজে আটক পাকিস্তানি ও অন্যান্য দেশের ক্রু সদস্যদের একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, হাত বাঁধা অবস্থায় বন্দি ক্রুরা নিজেদের জীবন বাঁচানোর জন্য পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সরকারের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপের আবেদন জানাচ্ছেন। তাদের দাবি, তারা ৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে জলদস্যুদের হাতে বন্দি অবস্থায় রয়েছেন এবং প্রতিদিন মৃত্যুভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

পালাউয়ের পতাকাবাহী এই তেলবাহী জাহাজটি ২১ এপ্রিল সোমালিয়ার উপকূলের কাছে জলদস্যুদের দ্বারা অপহৃত হয়। জাহাজটিতে মোট ১৭ জন নাবিক ছিলেন, যার মধ্যে ১০ জন পাকিস্তানি, ৪ জন ইন্দোনেশীয় এবং ভারত, মায়ানমার ও শ্রীলঙ্কার একজন করে নাগরিক রয়েছেন। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলির তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি অপহরণের পর থেকেই সোমালিয়ার উপকূলবর্তী এলাকায় জলদস্যুদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

   

আরও দেখুনঃ https://kolkata24x7.in/india/no-more-buying-cough-syrup-without-a-prescription/

সাম্প্রতিক ভিডিও বার্তায় বন্দি নাবিকরা জানিয়েছেন যে তাদের অবস্থা দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। জাহাজে পর্যাপ্ত খাদ্য নেই, বিশুদ্ধ পানীয় জল প্রায় শেষ হয়ে গেছে এবং চিকিৎসা সামগ্রীরও তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে। ক্রু সদস্যদের অভিযোগ, তারা দিনে মাত্র একবার সেদ্ধ ভাত খেয়ে বেঁচে আছেন এবং পান করার জন্য বাধ্য হয়ে জাহাজের নোংরা ট্যাংকের জল ব্যবহার করছেন। এর ফলে অসুস্থতা ও অপুষ্টির ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে। এর আগে বন্দি নাবিকদের পরিবারের সদস্যরাও একই ধরনের অভিযোগ সামনে এনেছিলেন এবং জানিয়েছিলেন যে তাদের স্বজনরা অত্যন্ত মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

নিরাপত্তা পরিস্থিতিও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ক্রু সদস্যদের দাবি, জাহাজের আশেপাশে প্রায় প্রতিদিনই গুলির শব্দ শোনা যায় এবং তারা জানেন না কখন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, MT Honour 25-এ বিপুল পরিমাণ দাহ্য ও বিস্ফোরক জ্বালানি কার্গো রয়েছে। ফলে কোনো সামরিক অভিযান চালিয়ে জাহাজটি মুক্ত করার চেষ্টা করলে ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। এ কারণেই সোমালি নিরাপত্তা বাহিনী ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

এদিকে মুক্তিপণ সংক্রান্ত আলোচনা কার্যত অচলাবস্থার মুখে পড়েছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, জলদস্যুরা প্রথমে প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলার মুক্তিপণ দাবি করলেও পরে তা কমিয়ে ৩ থেকে ৪ মিলিয়ন ডলারে নিয়ে আসে। তবে জাহাজের মালিকপক্ষ সরাসরি যোগাযোগ না করে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ায় জলদস্যুরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এর ফলে আলোচনার অগ্রগতি থমকে গেছে এবং বন্দিদের মুক্তির সম্ভাবনাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।