
তেহরান: ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশে একটি মেয়েদের হোস্টেলে যৌথ ইসরায়েল-মার্কিন (Missile strike)হামলায় ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ (IRNA) জানিয়েছে, মিনাব শহরের শাজারে তাইয়েবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকেই ছাত্রী। পরবর্তী আপডেটে মৃতের সংখ্যা ৫১-এ পৌঁছেছে বলে জানা গেছে, এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৪৫-৪৮ জন।
শনিবার আমেরিকা ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে বড় ধরনের হামলা শুরু করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানকে ‘মেজর কমব্যাট অপারেশন’ বলে ঘোষণা করেছেন এবং ইরানের জনগণকে ইসলামিক শাসনের বিরুদ্ধে উঠে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অফিসের কাছাকাছি এলাকা থেকে শুরু করে দেশজুড়ে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
আরও দেখুন: দোলের দিন বন্ধ কলকাতা মেট্রো
ইরানের পাল্টা হামলায় ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিতে মিসাইল ছোড়া হয়েছে। এই সংঘাতের মধ্যেই হরমোজগানের মিনাবে মেয়েদের স্কুলে হামলার ঘটনা ঘটে, যা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।আইআরএনএ জানিয়েছে, হামলায় স্কুল ভবনটি সরাসরি লক্ষ্য করে মিসাইল ছোড়া হয়। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে চিৎকার-চেঁচামেচি, আহতদের আর্তনাদ সব মিলিয়ে এক মর্মান্তিক দৃশ্য। প্রাদেশিক কর্মকর্তারা বলছেন, এটি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, যেখানে ছোট ছোট মেয়েরা পড়াশোনা করে।
অনেকে এটিকে ‘হোস্টেল লক্ষ্য করে ঘাতক মিসাইল’ বলে অভিহিত করেছেন, কারণ স্কুলের সঙ্গে ছাত্রীদের থাকার ব্যবস্থাও ছিল। ইরানের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, এই হামলা শিশুদের উপর নির্মম আক্রমণ। ফার্স নিউজ এজেন্সি (IRGC-সংশ্লিষ্ট) ধ্বংসস্তূপের ভিডিও প্রকাশ করেছে, যাতে দেখা যাচ্ছে ভবনের অংশ ভেঙে পড়েছে, ধোঁয়া উঠছে।
ইরানের বিদেশ মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে অভিহিত করেছে এবং রাষ্ট্রসংঘের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে। তারা বলছে, এই হামলা বেসামরিক পরিকাঠামো ও শিশুদের লক্ষ্য করে করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘন। অন্যদিকে, আমেরিকা ও ইসরায়েল এখনও স্কুল হামলার বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করেনি। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযানটি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করার জন্য। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (IRGC) বলেছে, তারা পাল্টা হামলা চালিয়ে যাবে।

