কোয়েটা: ফের পাকিস্তান সরকার বুঝিয়ে দিল বালোচদের (Mahrang Baloch)পাশে দাঁড়ালে তার ফল হয় ভয়ঙ্কর। বালুচিস্তানে মানবাধিকারকর্মী ও স্থানীয় অধিকার আন্দোলনকারীদের ওপর পাক সরকারের দমনপীড়ন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। দেশের একটি অ্যান্টি-টেররিজম আদালত কোয়েটায় বালোচ ইয়াকজেহতি কমিটির (বিওয়াইসি) প্রধান নেত্রী ও বিশিষ্ট অধিকারকর্মী ডা. মাহরাং বালোচকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে।
একই মামলায় আরও দুই নেতা সিবগাতুল্লাহ বালোচ ও বালাচ কাদিরকেও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়েছে।মাহরাং বালোচ বালুচিস্তানের অন্যতম সাহসী ও পরিচিত মুখ। গত কয়েক বছর ধরে তিনি বালোচ জনগোষ্ঠীর ওপর চলতে থাকা জোরপূর্বক গুম, রাজনৈতিক দমন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ইসলামাবাদের নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছিলেন।
আরও দেখুনঃ মমতা আমলের মাদ্রাসা বাজেট কেটে অর্ধেক করল শুভেন্দু সরকার
শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে বালোচ যুবক-যুবতীদের অধিকারের দাবি তুলে ধরেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।আদালতের এই রায়ের পর পাকিস্তানজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রাজনীতিবিদ, মানবাধিকার সংগঠন, সুশীল সমাজ ও আইনজীবীরা এই সাজাকে ‘বাকস্বাধীনতার ওপর বড় আঘাত’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন।
অনেকে মনে করছেন, এই রায়ের মাধ্যমে বালুচিস্তানের ন্যায়বিচার ও অধিকার আন্দোলনকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।মাহরাং বালোচের আন্দোলন মূলত বেলুচ জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। বেলুচিস্তানে জোরপূর্বক গুমের ঘটনা, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে সাধারণ মানুষের মৃত্যু, সম্পদের সদ্ব্যবহার না করা এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের অভাব নিয়ে তিনি বারবার সোচ্চার হয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে বেলুচ ইয়াকজেহতি কমিটি বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাঁদের আন্দোলনকে ‘সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ’ বলে চিহ্নিত করেছে।
বালুচিস্তান পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ হলেও এখানকার উন্নয়ন ও মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে মনে করেন, তাঁদের প্রাকৃতিক সম্পদ লুট করা হচ্ছে অথচ স্থানীয়দের কোনো লাভ হচ্ছে না। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দশক ধরে বালোচ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন চলছে।
পাকিস্তান সরকার অবশ্য এসব আন্দোলনকে বিচ্ছিন্নতাবাদী বলে অভিহিত করে দমন করে আসছে।মাহরাং বালোচের রায়ের পর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন সংগঠন বলেছে, শান্তিপূর্ণভাবে অধিকারের দাবি তোলার কারণে কাউকে এভাবে দীর্ঘমেয়াদি সাজা দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। পাকিস্তানের কয়েকজন বিরোধী রাজনীতিবিদও এই রায়ের সমালোচনা করে বলেছেন, এতে বালোচিস্তানের সমস্যা আরও জটিল হবে।



