পরপর তিন লস্কর জঙ্গির রহস্য মৃত্যু! নজরের আড়ালেই অপারেশন অজ্ঞাত আততায়ীদের

ইসলামাবাদ: পাকিস্তানে লস্কর-ই- তাইবার (Lashkar-e-Taiba)তিনজন শীর্ষস্থানীয় জঙ্গির পরপর মৃত্যু। আর এই রহস্য মৃত্যুতে সংগঠনের অন্দরে উদ্বেগ ও সন্দেহের ঝড়। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এই তিন…

lashkar-leaders-mysterious-deaths

ইসলামাবাদ: পাকিস্তানে লস্কর-ই- তাইবার (Lashkar-e-Taiba)তিনজন শীর্ষস্থানীয় জঙ্গির পরপর মৃত্যু। আর এই রহস্য মৃত্যুতে সংগঠনের অন্দরে উদ্বেগ ও সন্দেহের ঝড়। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এই তিন মৃত্যুকে ‘রহস্যময়’ বলে উল্লেখ করছেন অনেকে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলছেন এটি কি অভ্যন্তরীণ কোন্দল, নাকি বাইরের কোনো শক্তির হস্তক্ষেপ?

প্রথম ঘটনা উত্তর দির এলাকার, মারা যান লস্করের প্রবীণ প্রশিক্ষক গাজী মুমতাজ। তিনি সংগঠনের জন্য অসংখ্য জঙ্গি তৈরি করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। দ্বিতীয় ঘটনায় বাহাওয়ালপুরে হিট অ্যান্ড রানে নিহত হন মুহাম্মদ খুজাইমা কাসিম। তিনি লস্করের শীর্ষ নেতা মুহাম্মদ ইয়াকুবের ভাই। ইয়াকুব পাকিস্তান মুসলিম লীগ-মুবারকপুরের জেনারেল সেক্রেটারি।

   

খুজাইমার জানাজায় উপস্থিত ছিলেন লস্করের সহ-প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল রহমান মাক্কির ভাই হাফিজ আব্দুল মান্নান মাক্কি।তৃতীয় ঘটনায় সিনিয়র লস্কর কর্মী খালিদ বশিরকে সন্দেহজনক অবস্থায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁর মৃত্যুর বিস্তারিত তথ্য এখনও তদন্তাধীন। তিনটি মৃত্যুর ঘটনা এত দ্রুত ঘটায় লস্করের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

আরও দেখুনঃ চুক্তি ভেঙে যুদ্ধের দামামা! ইরানে মার্কিন এয়ারস্ট্রাইক, পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল তেহরান

পাকিস্তানি গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, এই মৃত্যুগুলোকে একসঙ্গে দেখলে অনেক প্রশ্ন উঠছে। কেউ কেউ মনে করছেন, এটি লস্করের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াইয়ের ফল। আবার অনেকে আন্তর্জাতিক শক্তির হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। লস্কর-ই-তাইবা ভারত-বিরোধী তৎপরতার জন্য কুখ্যাত। ২০০৮ সালের মুম্বই হামলাসহ একাধিক বড় ঘটনায় তাদের নাম জড়িয়েছে।

কূটনীতিকদের মতে এই তিন মৃত্যু লস্করের অপারেশনাল কাঠামোতে বড় ধাক্কা। বিশেষ করে গাজী মুমতাজের মতো প্রশিক্ষকরা এই সংগঠনের কাঠামো ছিল। খুজাইমা কাসিম মৃত্যু পাকিস্তানের রাজনৈতিক শাখার সঙ্গেও যুক্ত। খালিদ বশিরের মৃত্যু আরও রহস্যময়।

লস্করের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী এখন সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। অনেকে আশঙ্কা করছেন, এটি শুধু লস্কর নয়, পাকিস্তানের জঙ্গি নেটওয়ার্কের বৃহত্তর পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে।ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এই ঘটনাগুলোর ওপর নজর রাখছে। লস্করের মতো সংগঠনের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ভারতের জন্য সাময়িক স্বস্তি দিলেও, নতুন কোনো গ্রুপ উঠে আসার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

পাকিস্তানি মিডিয়ায় এই খবর সীমিতভাবে প্রকাশিত হলেও, আন্তর্জাতিক মহলে তুমুল আলোচনা চলছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন কে এই মৃত্যুগুলোর পেছনে? কোনো বিদেশি শক্তি, নাকি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ অংশ? উত্তর এখনও অজানা।