ভারত নয় পাকিস্তানকেই শেষ করার ছক ফাঁস লস্করের

পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে (Lashkar-e-Taiba)। জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবা (LeT)-এর এক শীর্ষ কমান্ডার প্রকাশ্যে পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
lashkar-e-taiba-attacks-pakistan-government

পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে (Lashkar-e-Taiba)। জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবা (LeT)-এর এক শীর্ষ কমান্ডার প্রকাশ্যে পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে।

অভিযুক্ত ওই নেতার নাম মহম্মদ আশফাক রানা। তাঁর কথিত বক্তব্যে পাঞ্জাব প্রদেশের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে বালোচিস্তানের দীর্ঘদিনের অস্থিরতা ও অবহেলার তুলনা টানা হয়েছে এবং পাকিস্তান সরকারকে “চোর” বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

   

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, কোনও নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের নেতার পক্ষ থেকে এই ধরনের প্রকাশ্য আক্রমণ পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং উদ্বেগজনক। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে, একাধিক উগ্রপন্থী গোষ্ঠী পাকিস্তানের মাটিতে কার্যত প্রশ্রয় পেয়ে এসেছে। কিন্তু এবার সেই ‘ঘরোয়া’ জঙ্গি শক্তির একাংশই যদি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করে, তবে তা ভবিষ্যতে বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের ইঙ্গিত দিতে পারে।

মার্কিন রাষ্ট্রপতি-মেয়রের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান ভারতের

উল্লেখ্য, বালোচিস্তানে দীর্ঘদিন ধরেই উন্নয়ন বঞ্চনা, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। সেই প্রেক্ষাপটে পাঞ্জাবের সঙ্গে বালোচিস্তানের তুলনা টেনে লস্কর-ই-তইবার নেতার মন্তব্য পাকিস্তান সরকারের জন্য অস্বস্তিকর বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

যদিও পাকিস্তান সরকারের তরফে এই মন্তব্য নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে বলে সূত্রের খবর। ইসলামাবাদের রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে—উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলির মধ্যে কি ভাঙন ধরছে, নাকি এটি কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা?

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই ধরনের প্রকাশ্য বক্তব্য দু’টি সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করে। প্রথমত, জঙ্গি সংগঠনগুলির অভ্যন্তরে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব বা আর্থিক-লজিস্টিক সহায়তা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে। দ্বিতীয়ত, রাষ্ট্রের উপর চাপ বাড়িয়ে নিজেদের দাবিদাওয়া আদায় করার কৌশল হিসেবেও এমন বক্তব্য আসতে পারে।

ভারতীয় নিরাপত্তা মহলও এই ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। লস্কর-ই-তইবা দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত এবং ভারতের বিরুদ্ধে একাধিক হামলার অভিযোগ রয়েছে এই সংগঠনের বিরুদ্ধে। ফলে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে লস্করের এই অসন্তোষ ভবিষ্যতে আঞ্চলিক নিরাপত্তায় কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, “যে শক্তিগুলিকে একসময় কৌশলগত সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল, তারাই যদি এখন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধেই সরব হয়, তবে সেটি দীর্ঘদিনের নীতির পরিণতি।” তাঁদের মতে, উগ্রপন্থাকে প্রশ্রয় দেওয়ার ফল শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রকেই ভোগ করতে হয়—এই ঘটনা তারই একটি উদাহরণ হতে পারে।

সব মিলিয়ে, লস্কর-ই-তইবার শীর্ষ নেতার এই প্রকাশ্য ক্ষোভ পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এবং পাকিস্তান সরকার কীভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google