পাকিস্তানের লাহোরে মার্কিন দূতাবাস এখন বিক্ষোভকারীদের হামলার মুখে পড়েছে। (Lahore Protest)ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে, এবং লাহোরে পরিস্থিতি সবচেয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিক্ষোভকারীরা কনস্যুলেটের প্রবেশদ্বারে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে, পাথর ছুড়েছে এবং ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেছে।
পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে, কিন্তু সংঘর্ষ এখনও চলছে।এই ঘটনা খামেনির মৃত্যুর পর পাকিস্তানে শিয়া সম্প্রদায়ের নেতৃত্বে চলা বিক্ষোভের অংশ। গত কয়েকদিনে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় খামেনেই র মৃত্যু হয়েছে বলে খবর ছড়িয়েছে, যা পাকিস্তানের শিয়া মুসলিমদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। লাহোরে শত শত বিক্ষোভকারী কালো পতাকা ও খামেনির ছবি হাতে নিয়ে রাস্তায় নেমেছে।
আরও দেখুন: খামেনির হত্যা নিয়ে চুপ কেন মোদী? তীব্র আক্রমণ সোনিয়া গান্ধীর
তারা ‘আমেরিকা মুর্দাবাদ’, ‘ইসরায়েল মুর্দাবাদ’ স্লোগান দিচ্ছে এবং কনস্যুলেটকে লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বিক্ষোভকারীরা কনস্যুলেটের গেটে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে, ধোঁয়া উড়ছে এবং পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি চলছে।পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা কনস্যুলেটের বাইরের নিরাপত্তা স্তর ভেদ করার চেষ্টা করেছে। কয়েকজন প্রবেশদ্বারের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল, যার ফলে পুলিশকে জোর করে তাদের পিছু হটাতে হয়েছে।
লাহোর পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হচ্ছে না।” এখনও পর্যন্ত লাহোরে কোনো বড় হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে কয়েকজন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।এই বিক্ষোভের মূল কারণ খামেনির মৃত্যু। পাকিস্তানের শিয়া সম্প্রদায় খামেনিকে ধর্মীয় নেতা হিসেবে গভীর শ্রদ্ধা করে।
তার মৃত্যুকে তারা ‘শাহাদাত’ বলে মনে করছে এবং এতে আমেরিকা ও ইসরায়েলকে দায়ী করছে। লাহোরের এক বিক্ষোভকারী বলেন, “খামেনি সাহেব ছিলেন মুসলিম উম্মাহর জন্য একটা মজবুত কণ্ঠ। তার মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। আমেরিকা এই অপরাধের দায় এড়াতে পারবে না।” অনেকে বলছেন, এই প্রতিবাদ শান্তিপূর্ণ হওয়া উচিত, কিন্তু ক্ষোভের আগুন এত তীব্র যে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
পাকিস্তান সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি শান্তির আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “খামেনির মৃত্যুতে আমরা সবাই শোকাহত। এটা মুসলিম উম্মাহর জন্য শোকের দিন। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করুন।”
সিন্ধু ও পাঞ্জাব প্রদেশে জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কিন্তু বিক্ষোভকারীরা তা মানছে না। মার্কিন দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা লাহোর, করাচি, ইসলামাবাদ ও পেশোয়ারে চলা বিক্ষোভ নজরে রাখছে। আমেরিকান নাগরিকদের ভিড় এড়াতে এবং সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ভিসা সার্ভিস সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।



















