কুয়েতে ইরানপন্থী স্লোগানে জুটল নির্বাসন-খোয়া গেল নাগরিকত্ব! ভারতে হলে কী হত?

সম্প্রতি কুয়েতে একটি ঘটনা ঘটেছে যা আন্তর্জাতিক মহলে বেশ আলোচিত হয়েছে। (Kuwait)ইরান-ইসরায়েল-আমেরিকার চলতে থাকা সংঘাতের মধ্যে কিছু কুয়েতি নাগরিক ইরানের পক্ষে স্লোগান দিয়ে উদযাপন করেছেন…

kuwait-pro-iran-slogans-citizenship-revoked-deportation

সম্প্রতি কুয়েতে একটি ঘটনা ঘটেছে যা আন্তর্জাতিক মহলে বেশ আলোচিত হয়েছে। (Kuwait)ইরান-ইসরায়েল-আমেরিকার চলতে থাকা সংঘাতের মধ্যে কিছু কুয়েতি নাগরিক ইরানের পক্ষে স্লোগান দিয়ে উদযাপন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ইরানের কোনো একটি আক্রমণ বা ঘটনাকে সমর্থন করে তারা তেহরানের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছেন। কুয়েত সরকার এই ঘটনাকে রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে দেখেছে।

ফলে কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কুয়েতি নাগরিকত্ব ছিনিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং নির্বাসিত করে ইরানে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, যারা কুয়েতের প্রতি আনুগত্য দেখায় না, তাদের এখানে থাকার কোনো অধিকার নেই ‘চলে যাও’।এই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। অনেকে কুয়েতের এই কঠোর অবস্থানকে প্রশংসা করছেন, বলছেন এটাই সঠিক পদক্ষেপ।

Advertisements

আরও দেখুনঃ আগদাসিয়েহ তেল ডিপোতে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ভয়াবহ পরিণতি

কারণ, নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে দেশের প্রতি আনুগত্যের বিনিময়ে, তা না থাকলে তা ফিরিয়ে নেওয়া উচিত। কুয়েতের মতো ছোট দেশে, যেখানে জনসংখ্যার বড় অংশ বিদেশি শ্রমিক, নাগরিকত্ব একটি মূল্যবান সম্পদ। সেখানে এমন কঠোর নীতি অনেকের কাছে যুক্তিসঙ্গত মনে হচ্ছে।কিন্তু রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে যদি এমন ঘটনা ভারতে ঘটতো, তাহলে কী হত?

কূটনৈতিক মহলের মতে ভারতের মতো বৈচিত্র্যময়, বহুসংস্কৃতির দেশে, যেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ বিভিন্ন ধর্ম, ভাষা, সংস্কৃতির, এবং অনেকেরই বিদেশি উৎস রয়েছে যদি কোনো গোষ্ঠী কোনো বিদেশি দেশের পক্ষে স্লোগান দিয়ে রাস্তায় নামতো, তাহলে কত কোটি মানুষের নাগরিকত্ব ঝুঁকিতে পড়তো? ভারতে তো শুধু স্লোগান নয়, অনেক সময় রাজনৈতিক মিছিল, বক্তৃতা, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট সবকিছুতেই বিদেশি শক্তির প্রতি সমর্থন বা বিরোধিতা প্রকাশ পায়।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে যদি কোনো বড় শহরে হাজার হাজার মানুষ কোনো বিদেশি দেশের পক্ষে বা বিরুদ্ধে চিৎকার করে, তাহলে সরকার কী করত? কুয়েতের মতো নাগরিকত্ব ছিনিয়ে নেওয়া শুরু করলে কতজনের নামের তালিকা তৈরি হতো? কয়েক লক্ষ? কয়েক কোটি? বিশেষ করে যারা CAA-NRC বিতর্কের সময় বিদেশি অনুপ্রবেশ নিয়ে কথা বলেছেন, বা কোনো প্রতিবেশী দেশের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন তাদের কী অবস্থা হত?

আর যদি সরকার সত্যিই কঠোর হতো, তাহলে শুধু সাধারণ মানুষ নয় অনেক সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, লেখক, অধ্যাপক, অভিনেতা, সোশ্যাল অ্যাকটিভিস্টদের নামও তালিকায় চলে আসতো।ভারতে তো স্বাধীনতা ও অভিব্যক্তির অধিকার সংবিধানের মূল স্তম্ভ। কিন্তু যখন জাতীয় নিরাপত্তা বা সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন ওঠে, তখন অনেক কিছু বদলে যায়। অতীতে দেখা গেছে, কোনো বিদেশি শক্তির প্রতি সমর্থন দেখালে UAPA-র মতো আইনের আওতায় পড়তে হয়েছে। তবে একাধিক রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব মনে করেছেন কুয়েতের মত ছোট দেশে নাগরিকত্ব আইন কঠোর হলেও ভারতে এখনও নাগরিকত্ব আইন তত কঠোর হতে পারেনি।