ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ফের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল (Imambargah blast)। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘ডন’-এর প্রতিবেদনে জানা গেছে, শহরের শাহজাদ টাউন এলাকার তেরলাই ইমামবারগাহে এক শক্তিশালী বিস্ফোরণে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটার পরই এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ, উদ্ধারকারী দল ও দমকল বাহিনী। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং শুরু হয় তৎপর উদ্ধারকাজ।
বিস্ফোরণের পরপরই পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (পিমস) হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সূত্রে খবর, হাসপাতালে একের পর এক অ্যাম্বুল্যান্স পৌঁছতে থাকে। আহতদের চিকিৎসায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন চিকিৎসকরা। হাসপাতালের করিডরজুড়ে আতঙ্কিত আত্মীয়-স্বজনদের ভিড়ও দেখা যায়।
আরও দেখুন: বিধানসভায় অগ্নিমিত্রা-ফিরহাদ বিতর্ক, সংখ্যালঘু মন্তব্যে তীব্র উত্তাপ, ক্ষমা চাওয়ার দাবি
এই বিস্ফোরণের ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই উদ্বেগজনক। কয়েকদিন আগেই বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)-র সঙ্গে পাক সেনাবাহিনীর সংঘর্ষে উভয় পক্ষেই ব্যাপক হতাহতের খবর সামনে এসেছে। সেই উত্তেজনার রেশ কাটতে না কাটতেই রাজধানীতে এই বিস্ফোরণ নতুন করে আতঙ্ক বাড়াল।
এটি ইসলামাবাদে সাম্প্রতিক সময়ের দ্বিতীয় বড় বিস্ফোরণ। গত নভেম্বরেও একটি আত্মঘাতী বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল পাকিস্তানের রাজধানী। সেই ঘটনায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ফলে বারবার এমন ঘটনা ঘটায় রাজধানীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বাড়ছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশ দীর্ঘদিন ধরেই বিচ্ছিন্নতাবাদী সহিংসতার জন্য পরিচিত। এই প্রদেশটি খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এবং আফগানিস্তান ও ইরানের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করে নিয়েছে। সেখানে সক্রিয় একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠী নিয়মিতভাবে নিরাপত্তা বাহিনী, বিদেশি নাগরিক এবং বহিরাগত পাকিস্তানিদের উপর হামলা চালিয়ে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক সমন্বিত হামলার ফলে প্রদেশজুড়ে সহিংসতা নতুন করে বেড়েছে।
ইসলামাবাদের এই বিস্ফোরণের পিছনে কারা রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে তদন্ত শুরু করেছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনী রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, বিস্ফোরণের শব্দ এতটাই প্রবল ছিল যে কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও তা শোনা যায়। মুহূর্তের মধ্যে এলাকা ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এবং চারদিকে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়। অনেকে নিজেরাই আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে সাহায্য করেন।
এই ঘটনার পর পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে রাজধানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বারবার বিস্ফোরণ হওয়ায় প্রশাসনের উপর চাপ বাড়ছে। এখন সকলের নজর তদন্তের দিকে কারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত এবং তাদের উদ্দেশ্য কী, সেটাই জানতে চাইছে সাধারণ মানুষ।




















